রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় ঘাঘট নদীতে পড়ে রোহান নামের ১৯ মাস বয়সী এক ছোট্ট শিশুর সলিল সমাধি ঘটেছে। রোববার সকালে নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা পর দুপুরে নদী থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শিশুটির এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক বিদায়ে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
নিহত রোহান গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের বকশীগঞ্জ এলাকার জুয়েলের ছেলে। সে তার মা রেজিয়ার সঙ্গে নানাবাড়ি বেতগাড়ী ইউনিয়নের শাতআনী এলাকায় থাকত। স্বজনদের কোল আলো করে রাখা ১৯ মাসের ফুটফুটে এই শিশুটির এমন মৃত্যু কেউ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালের দিকে নানাবাড়ির পাশের ঘাঘট নদীর পাড়ে খেলতে যায় ছোট্ট রোহান। সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে তাকে আর নদীপাড়ে বা আশপাশে দেখতে না পেয়ে পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হয়। তারা দ্রুত চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। শিশুটির হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রতিবেশীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনুসন্ধানে যোগ দেন এবং আশপাশের সম্ভাব্য সব জায়গায় তল্লাশি চালান। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও শিশুটির কোনো সন্ধান মিলছিল না, যা স্বজনদের উৎকণ্ঠা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও খোঁজাখুঁজির পর দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ঘাঘট নদীর পানিতে একটি শিশুর দেহ ভেসে থাকতে দেখেন। তারা দ্রুত নদী থেকে দেহটি ডাঙ্গায় তুলে আনেন। পরে সেখানে উপস্থিত নিখোঁজ রোহানের পরিবারের সদস্যরা কান কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং ভাসমান নিথর দেহটি রোহানের বলেই শনাক্ত করেন। চোখের সামনে ফুটফুটে সন্তানকে এভাবে মৃত অবস্থায় ফিরে পেয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন স্বজনরা।
সন্তানকে হারিয়ে মা রেজিয়ার আর্তনাদ ও শোকের কান্নায় নদীপাড়ের পুরো পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে ব্যাকুল হয়ে মা রেজিয়া বলেন, সকালে খেলাধুলা করতে গেছিল রোহান। তিনি ভেবেছিলেন আর দশটা দিনের মতোই খেলা শেষে শিশুটি আবার কোলে ফিরে আসবে। কিন্তু সেই আশা আর সত্যি হলো না। কত খুঁজেছেন, কত ডেকেছেন কিন্তু কোথাও নিজের সোনা মানিককে পাননি। অবশেষে নদী থেকেই পেলেন সন্তানের নিথর দেহ। বুক খালি করে চলে যাওয়া এই অবুঝ সন্তানকে ছাড়া কীভাবে বাঁচবেন, সেই আকুল প্রশ্নে শোকে ব্যাকুল হয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি। মায়ের এই আহাজারি উপস্থিত স্থানীয়দের চোখ অশ্রুসজল করে তোলে।
ঘটনার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা সেখানে পৌঁছান। মর্মান্তিক এই বিষয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে গঙ্গাচড়া মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা আবু হানিফ সরকার জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত এই মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অভিযোগ না থাকায় শিশুটির মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া থানায় একটি অপমৃত্যু বা ইউডি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।