রংপুরের পীরগঞ্জে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মো. মনিরুজ্জামান ওরফে মনিরকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানাধীন ধাপেরহাট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে র্যাব-১৩ এর সিপিএসসি দল। গ্রেফতারকৃত মনিরুজ্জামান মিঠাপুকুর থানাধীন দুর্গাপুর গ্রামের মো. জাহিদুল ইসলামের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রের তথ্য মতে, ভুক্তভোগী মেয়েটি স্থানীয় একটি স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে পরিচয় থেকে মনিরুজ্জামান তাকে প্রেম-ভালোবাসার প্রস্তাব দেয় এবং বিয়ের অঙ্গীকার করে সম্পর্ক গড়ে তোলে। গত ২১ জুন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মনিরুজ্জামান ওই ছাত্রীকে পীরগঞ্জের ঝিলমিল পার্কে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে ডেকে নেয়। মেয়েটি সহজ বিশ্বাসে তার কথায় রাজি হয়ে পার্কে গেলে, কৌশলে তাকে পার্কের ভেতরে ভূতের রুম নামের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই মেয়েটি মারাত্মক শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে আসামি তাকে ওই অবস্থাতেই ফেলে রেখে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। অসহায় অবস্থায় মেয়েটি মোবাইল ফোনে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানালে তার বাবা তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশঙ্কাজনক বিবেচনায় তাকে উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় গত ৩০ জুন ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে পীরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। আইনের চোখ থেকে বাঁচতে অভিযুক্ত আসামি আত্মগোপনে চলে যায়। বিষয়টির স্পর্শকাতরতা ও গুরুত্ব অনুধাবন করে আসামিকে আইনের আওতায় আনতে র্যাব-১৩ তাত্ক্ষণিকভাবে গোয়েন্দা তৎপরতা ও নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে গোপন সূত্রে প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে যে আসামি ধাপেরহাট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান করছে। এই খবরের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত এক সময়োপযোগী অভিযানে পলাতক আসামি মনিরুজ্জামান ধরা পড়ে।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী। একই সাথে র্যাবের পক্ষ থেকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে যে, সমাজ থেকে হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ কিংবা বলাৎকারের মতো সকল ধরণের গুরুতর ও অনৈতিক অপরাধ নির্মূলে তাদের কঠোর আইনি অভিযান ও মনিটরিং ভবিষ্যতেও একইভাবে অব্যাহত থাকবে।