রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বেতগাড়ী একরামিয়া বহুমুখী ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার জমি বন্ধক রেখে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বেতগাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মাহমুদুল ইসলাম সবুজ। শনিবার সকালে গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রকাশিত সংবাদটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর এবং বেতগাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. সহিদুল ইসলাম মুন্সির ছবি ব্যবহার করে তাঁদের জড়িত হিসেবে উপস্থাপন করায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মাহমুদুল ইসলাম সবুজ জানান, মাদ্রাসার জমি জোরপূর্বক ভোগদখল, বন্ধক রাখা কিংবা কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে তাঁর ন্যূনতম সম্পৃক্ততা নেই। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে তদন্ত চলছে এবং তা প্রক্রিয়াধীন থাকা সত্ত্বেও কোনো প্রকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আগেই তাঁদের ছবি ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এই ধরনের সংবাদ প্রকাশ তাঁদের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ঘটনার নেপথ্যের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধিতা ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি কুচক্রী মহল তাঁদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। বিগত সরকারের সময়ে সুবিধাভোগী কিছু ব্যক্তি বিএনপিতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সহিদুল ইসলাম মুন্সির সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক এবং নির্বাচনে নিজেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকেই এই ষড়যন্ত্র তীব্র রূপ নেয়। ওই মহলটি তাঁদের রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং দলীয় পদ থেকে সরানোর চক্রান্ত হিসেবেই অপসাংবাদিকতার আশ্রয় নিয়ে এই মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করিয়েছে।
অভিযোগের সঠিক সত্যতা প্রকাশের জোর দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হলেই প্রকৃত থলথলে সত্য বেরিয়ে আসবে। জমির দলিল, বন্ধকের দাপ্তরিক প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে নির্দোষ ব্যক্তিদের নাম পরিষ্কার হবে। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের সহযোগিতা কামনা করেন এবং প্রশাসনের নিকট নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান। তথ্য যাচাই-বাছাই না করে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সংবাদকর্মীদের প্রতিও অনুরোধ জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে বেতগাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান রিপন বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এবং সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি একই ব্যক্তি হতে পারেন, যা কাকতালীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়। কিন্তু সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক একটি বিষয়ে প্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপির নাম জড়িয়ে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার যে ঘৃণ্য মানসিকতা দেখানো হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি এই ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা জানান এবং মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের বিরুদ্ধে আইনি ও দলীয় ব্যবস্থা নিতে উচ্চপর্যায়ের নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
একই সংবাদ সম্মেলনে সত্য উদঘাটনের উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছায় উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেন স্থানীয় বর্গা চাষী সাইদুল ইসলাম। তিনি জানান, প্রতি বছর সাধারণ নিয়ম মেনেই তিনি লিজের টাকা জমা দিয়ে আসছেন। প্রতিষ্ঠানের জমি কেউ বন্ধক নেওয়ার মতো অবাস্তব কাজ করেছে বলে তাঁর জানা নেই। সম্মেলনে স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকসহ বেতগাড়ী ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।