পঞ্চগড়ের সীমান্তবর্তী অঞ্চলের সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এক অনন্য মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আজ শনিবার সকাল থেকে দিনব্যাপী জেলার আটোয়ারী উপজেলার ধামোরহাট আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ব্যবস্থাপনায় এক বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই বৈরী আবহাওয়া ও মুষলধারে বৃষ্টি থাকা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করে স্বাস্থ্যসেবা নিতে ক্যাম্পেইন প্রাঙ্গণে উপচে পড়া ভিড় জমান সীমান্ত এলাকার অসংখ্য মানুষ।
বিজিবির এই সুসংগঠিত মেডিকেল ক্যাম্পেইনে অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসরত প্রায় ৫০০ জন দুস্থ, হতদরিদ্র ও অসহায় নারী, পুরুষ এবং শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি সেবা নিতে আসা প্রতিটি মানুষের হাতে তাদের রোগ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র বিনামূল্যে তুলে দেওয়া হয়। বৃষ্টির মধ্যেও সুদূর সীমান্ত গ্রামগুলো থেকে আসা অসচ্ছল মানুষগুলো ঘরের কাছে এমন উন্নত সেবা পেয়ে গভীর স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির ঠাকুরগাঁও সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ সুরুজ মিয়া। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড় ১৮ বিজিবির অধিনায়ক লে কর্নেল আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েস সহ বিজিবির অন্যান্য কর্মকর্তা ও চিকিৎসকমণ্ডলী।
কর্মসূচি পর্যবেক্ষণকালে বিজিবির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ অখণ্ডতা রক্ষা ও দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনগণের সার্বিক কল্যাণে সর্বদা তৎপর রয়েছে। সীমান্তবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং যেকোনো প্রতিকূলতায় তাদের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে বিজিবি নিয়মিতভাবেই নানা ধরনের সামাজিক ও জনসেবামূলক কাজ পরিচালনা করে থাকে। এর অংশ হিসেবে দুস্থদের মাঝে নিয়মিত ত্রাণ ও শীতবস্ত্র বিতরণ, যেকোনো দুর্যোগকালীন উদ্ধারকাজ ও জরুরি খাদ্য সহায়তা প্রদান, বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ সরবরাহ এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ প্রদানসহ নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সীমান্তের কঠিন প্রহরায় নিযুক্ত থাকার পাশাপাশি বিজিবির এমন সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল তৎপরতা স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে গভীর আস্থা ও নিরাপত্তার অনুভূতি জোগাচ্ছে। বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, সীমান্তে নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি অত্র অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে এ ধরনের সেবামূলক ও মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।