জুলাই ও আগস্টের রক্তঝরা দিনগুলোতে যারা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, সেই বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও স্মৃতির প্রতি অন্যরকম এক মমতা প্রকাশ করেছে পঞ্চগড় পৌর ছাত্রদল। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পঞ্চগড় পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামীম ইসলামের হৃদয়ানুভূতি ও উদ্যোগে আয়োজিত হয় এই ব্যতিক্রমী এবং মানবিক কর্মসূচি। শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতে পঞ্চগড়ের মাটি সাক্ষী হয় এক অশ্রুসজল কিন্তু আশার আলো জ্বালানো বিকেলের।

শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে শহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখতে এবং প্রকৃতির মাঝে তাদের উপস্থিতি ধরে রাখার এক অনন্য প্রয়াস দেখা গেছে এই আয়োজনে। শহীদদের কবরে রোপণ করা হয় ভেষজ ও বিশুদ্ধতার প্রতীক নিমগাছ। একই সাথে শহীদদের নিজ নিজ বাড়ির আঙিনায় রোপণ করা হয় ফলজ গাছের চারা, যা একসময় ফল দেবে ও ছায়া দেবে, ঠিক যেমন শহীদরা তাদের জীবন দিয়ে জাতিকে নতুন আলো দিয়ে গেছেন।
কর্মসূচির শুরুতেই নেতাকর্মীরা সমবেত হন শহীদ সাগরের কবরের পাশে। সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শহীদ সাগরের পিতা মো: রবিউল ইসলাম স্বয়ং উপস্থিত থেকে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানান, পঞ্চগড় পৌর ছাত্রদলের এমন এক মহৎ উদ্যোগে তিনি খুশি। তিনি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সন্তানের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে চোখের জলে মোনাজাত করেন। নেতাকর্মীদের কণ্ঠে তখন ছিল সহযোদ্ধাকে হারানোর বেদনা এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনার আকুতি।

কবর জিয়ারত ও দোয়া শেষে নেতাকর্মীরা শহীদদের পরিবারবর্গের কাছে ছুটে যান, তাদের পাশে বসে সুখ-দুঃখের গল্প শোনেন এবং সান্ত্বনা দেন। শহীদরা শুধু একটি দলের নয়, তারা গোটা দেশের সম্পদ—এই চেতনাকে সামনে রেখে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পরিবারগুলোর হাতে তুলে দেওয়া হয় ভালোবাসার উপহারস্বরূপ আর্থিক সহায়তা।
পঞ্চগড় পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামীম ইসলাম বলেন, মাসব্যাপী কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবং ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশক্রমে শহীদ পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে পঞ্চগড়ে শহীদদের কবর জিয়ারতসহ কবরের পাশে গাছের চারা রোপণ করা হয়। তিনি আরও বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে নতুন ভবিষ্যৎ উপহার দিয়ে গেছেন, তাদের আত্মত্যাগ এ জাতি কখনো ভুলবে না। শুধু নামমাত্র আনুষ্ঠানিকতা নয়, এই বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি সত্যি কারের শ্রদ্ধা জানাতে হলে তাদের পরিবারের সুখে-দুঃখে ছায়ার মতো পাশে থাকতে হবে। আজ যে গাছের চারা রোপণ করা হলো, তার শিকড় যেমন মাটিকে আঁকড়ে রাখবে, তেমনি শহীদদের স্মৃতি ও তাদের পরিবারের সাথে সম্পর্কও আজীবন অটুট থাকবে।
উক্ত কর্মসূচিতে পঞ্চগড় পৌর ছাত্রদল, সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদল এবং সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। রক্তে লেখা ইতিহাসকে বুকে ধারণ করে এবং শহীদদের স্বপ্নপূরণের অঙ্গীকার নিয়ে তারা শেষ করেন তাদের এই মানবিক আয়োজন।