• শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৩:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বীরগঞ্জে যৌথ অভিযানে ১২ লাখ টাকার গাঁজাসহ আটক ৩ ডোমার চিলাহাটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক কাজলের মাতার প্রয়াণ, বটতলী ঈদগাহে দাফন সম্পন্ন বীরগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে ৫৬ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার তিন মাদক ব্যবসায়ী পঞ্চগড়ে জুলাই শহীদদের স্মরণে পৌর ছাত্রদলের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, কবর ও বাড়িতে চারা রোপণসহ আর্থিক সহায়তা প্রদান গঙ্গাচড়ায় দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়কে বেহাল দশা, গর্ত আর কাদায় ১৫শ’ মানুষের ভোগান্তি গংগাচড়ায় সয়ড়াবাড়ি কমিউনিটি ক্লিনিকে সময়সূচি না মানা ও ওষুধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ ডোমারে শিক্ষক হুমায়ুন কবিরের পিতা নিজাম উদ্দিন আহমেদের জানাজা সম্পন্ন, সর্বস্তরে শোকের ছায়া পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল কারসাজির অভিযোগ, পঞ্চগড়ে বিএনপির তীব্র প্রতিবাদ দৈনিক প্রলয় পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মো: শাহিদুল ইসলামের নিয়োগ তদন্তে জেলা প্রশাসন বীরগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বিধবাকে টিন ও আর্থিক সহায়তা প্রদান

গঙ্গাচড়ায় দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়কে বেহাল দশা, গর্ত আর কাদায় ১৫শ’ মানুষের ভোগান্তি

রফিকুল ইসলাম সাবুল, সিনিয়র রিপোর্টার (ক্রাইম), রংপুর
বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘ প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়ক সংস্কারের অভাবে এখন চরম চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় শালমারা কবরস্থান থেকে শুরু করে মকসুদুলের বাড়ি, সেখান থেকে তেলিপাড়া হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুল মাজেদের বাড়ি সংলগ্ন পাকা মসজিদ পর্যন্ত পুরো সড়কটিতে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্ত পানিতে তলিয়ে যায় এবং পুরো পথজুড়ে কাদার সৃষ্টি হয়। এর ফলে যেকোনো ধরনের যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাই দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কটির এমন করুণ অবস্থার কারণে চরম ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন এলাকার প্রায় ১৫শ’ বাসিন্দা।

বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ বহুগুণ বেড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা মুকুল মিয়া জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটির কোনো সংস্কারকাজ না হওয়ায় বর্ষায় গর্তগুলোতে পানি জমে থাকে। এতে বোঝার উপায় থাকে না যে কোথায় রাস্তা আর কোথায় গভীর গর্ত। ফলে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটছে। মাত্র চার দিন আগে তার বাড়িতে আসা এক অতিথি ভ্যানে করে যাওয়ার সময় একটি সেতুর পাশের গর্তে উল্টে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন।

গ্রামের নিত্যদিনের যাতায়াতব্যবস্থা একেবারে ভেস্তে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সব পেশার মানুষ। আরিফ মিয়া নামের অপর এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, সাধারণ কৃষক ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াত করতে হয়। স্থানীয়দের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যাওয়া এবং উপজেলা সদরে যোগাযোগের জন্য এটিই একমাত্র পথ। কিন্তু সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে।

কাদার কারণে সামাজিক নানা কর্মকাণ্ডও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আবু বক্কর জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার করুণ অবস্থা বিরাজ করায় শিশুদের প্রতিনিয়ত স্কুলে যেতে কষ্ট হচ্ছে। এমনকি এলাকায় কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হলেও বরযাত্রীদের বহনকারী যানবাহন কাদার ভয়ে পাড়ায় প্রবেশ করতে চায় না। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তাটি পাকা বা সংস্কারের দাবি জানান।

সড়কের যান্ত্রিক চালকদের দুর্ভোগের চিত্র আরও করুণ। ভ্যানচালক বাবলু মিয়া জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তগুলো পানির নিচে তলিয়ে যায়। কিছুদিন আগে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় গর্তে পড়ে গিয়ে তিনি নিজে আহত হয়েছেন। একই এলাকার অন্য ভ্যানচালক সুরুজ মিয়া জানান, রাস্তার এমন বাজে অবস্থার কারণে রাতের বেলা ভ্যান চালিয়ে নিজের বাড়িতেও নেওয়া সম্ভব হয় না। অনেক সময় বাধ্য হয়ে গাড়িটি অন্যের বাড়িতে পাহাড়ায় রেখে হেঁটে বাড়ি ফিরতে হয়। তার দাবি, গত চার বছর ধরে এই সড়কটিতে কোনো ধরণের মেরামত বা সংস্কারের কাজ হয়নি।

স্থানীয় অভিভাবক জলিল মিয়ার মতে, তার নিজের মেয়েসহ এলাকার অনেক ছোট ছোট শিশু প্রতিদিন এই কাদার পথ পার হয়ে স্কুলে যায়। শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে সারাক্ষণ উদ্বেগে থাকতে হয় অভিভাবকদের।

ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপরও পড়েছে এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব। স্থানীয় দোকানদার কাদের জানান, রাস্তার বাজে অবস্থার কারণে গ্রাহকরা দোকানে আসতে চান না। শুধু তাই নয়, কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার মতো ন্যূনতম পরিবেশও এখানে নেই। অ্যাম্বুলেন্স কিংবা ভ্যান এসে পৌঁছাতে পারে না বলে রোগীদের বাধ্য হয়ে কোলে করে হেঁটে ভালো রাস্তার অংশ পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয়।

বর্ষার এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন গর্ভবতী নারী, প্রবীণ ও আশঙ্কাজনক রোগীরা। এলাকার জুয়েল মিয়া দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে কোনো গাড়ি না পাায় রোগীকে কোলে তুলে নিয়ে মূল সড়ক পর্যন্ত দৌড়াতে হয়।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকট দূর করতে স্থানীয়রা দফায় দফায় দাবি জানিয়ে আসলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। লিখন মিয়া নামের এক বাসিন্দা জানান, তারা বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সড়কটি মেরামতের আকুল আবেদন জানিয়েছেন, তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। এই দুই কিলোমিটার পথ দ্রুত সংস্কার করা হলে অন্তত ১৫শ’ মানুষের নিত্যদিনের দুঃখ দূর হবে, সেই সাথে কৃষিপণ্য সহজে পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং স্থানী অর্থনীতিতে ইতিবাচক গতি ফিরে আসবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি শাহীনুর রহমান শাহিন বলেন, এবারের অতিবৃষ্টির কারণেই মূলত রাস্তাটির এই করুণ অবস্থা হয়েছে এবং তা পুরোপুরি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অতি দ্রুত বিষয়টিকে ঊর্ধ্বতন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

তবে কেবল আশ্বাসে আর আস্থা রাখতে পারছেন না ভোগান্তিতে থাকা গ্রামীণ মানুষ। গঙ্গাচড়ার সয়ড়াবাড়ি ও বড়বিল ইউনিয়নের এই ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের একটাই দাবি, কর্তৃপক্ষ যেন অনতিবিলম্বে সরজমিনে এই জনদুর্ভোগের চিত্র পরিদর্শন করে দ্রুত সড়কটি মেরামতের স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।


More News Of This Category