আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: রংপুরের গঙ্গাচড়ায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ সুখীমনিকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চাঞ্চল্যকর অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি তার স্বামীসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৩। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে পঞ্চগড় ও লালমনিরহাটের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন এই মামলার প্রধান আসামি ও নিহতের স্বামী মো. শামীম মিয়া (২৪), ২ নম্বর আসামি মো. সাজু মিয়া (৫০), ৩ নম্বর আসামি মোছা. আফরোজা বেগম (৪৬), ৬ নম্বর আসামি মোছা. সাথী বেগম (২২) এবং ৯ নম্বর আসামি মো. আমিনুল গাটিয়া (৬০)।
এসআরবি-১৩ সূত্রে জানা গেছে, রংপুরের গঙ্গাচড়া থানাধীন চিল্লানির মাজার এলাকায় যৌতুকের দাবিতে সুখীমনিকে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। উক্ত ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রের তথ্য মতে, ২০২৪ সালে শামীম মিয়ার সঙ্গে সুখীমনির বিয়ে সম্পন্ন হয়। তবে বিয়ের কিছুদিন যেতে না যেতেই শামীম ও তার পরিবারের সদস্যরা দুই লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে সুখীমনির ওপর অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে শুরু করেন। এই নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে একাধিকবার সালিশ-মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে শামীম ও তার পরিবারের সদস্যরা সুখীমনির ওপর পুনরায় নির্মম নির্যাতন শুরু করেন। এর পরদিন রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ২ নম্বর কোলকন্দ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. শরীফুল ইসলাম মুঠোফোনে সুখীমনির স্বজনদের তার মৃত্যুর বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সুখীমনির গলায় আঘাতের স্পষ্ট কালো দাগ দেখতে পান।
হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় নিহতের মা রওশরা বেগম বাদী হয়ে গত ১২ সেপ্টেম্বর গঙ্গাচড়া মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার নম্বর ১৬। মামলাটি দায়েরের পর থেকেই আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান।
ঘটনাটির গুরুত্ব অনুধাবন করে আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে এসআরবি-১৩ তাদের গোয়েন্দা নজরদারি ব্যাপক জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ২২ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটার দিকে পঞ্চগড়ের বোদা থানার মালিপুকুরি এলাকায় একটি সফল অভিযান পরিচালনা করে এসআরবি-১৩-এর সিপিএসসি, রংপুরের একটি চৌকস দল। সেখান থেকে সাথী বেগম ও আমিনুল গাটিয়াকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত এই দুই আসামির দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে একই দিন সকাল ৬টার দিকে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ থানার কাশিরাম গ্রামে দ্বিতীয় অভিযান চালানো হয়। সেখানে লুকিয়ে থাকা মামলার প্রধান আসামি শামীম মিয়া, ২ নম্বর আসামি সাজু মিয়া ও ৩ নম্বর আসামি আফরোজা বেগমকে আটক করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া সকল আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর সম্পন্ন করা হয়েছে। এসআরবি-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী অধিনায়কের পক্ষে এই পুরো বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839