• মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
তথ্য পাচারের সন্দেহে ডিএমপির ৫০টি থানার রাইটারদের গণবদলি টাঙ্গাইলে সরকারি শিশু পরিবারের ৮ মেধাবী শিক্ষার্থীকে ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকার মেধাবৃত্তি প্রদান কক্সবাজারের লিংক রোডে ১৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার দুই মাদক কারবারি খুলনায় শিক্ষার্থী আজমুল হত্যা মামলার অভিযুক্ত রিফাত পিরোজপুর থেকে গ্রেপ্তার ডোমারের চিলাহাটিতে ১০ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ চিহ্নিত মাদক কারবারি গ্রেফতার ডোমারে চাঞ্চল্যকর একরামুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি ইয়ানুর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার ডোমারে স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় গৃহবধূকে পিটিয়ে গুরুতর জখমের অভিযোগ রংপুরে অপহৃত স্কুলছাত্রী উদ্ধার, প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৫ ওজনে কম ও বেশি দামে পণ্য বিক্রির দায়ে রংপুরে ২ প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বীরগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশে নারী স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

তথ্য পাচারের সন্দেহে ডিএমপির ৫০টি থানার রাইটারদের গণবদলি

সংবাদদাতা:
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: ঢাকা মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালন করা কম্পিউটার অপারেটর বা রাইটারদের ভূমিকা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। গোপনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ নথি বাইরে পাচার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রাজধানী ঢাকার ৫০টি থানার রাইটারদের একযোগে গণবদলি করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে থানার যাবতীয় অনলাইন জিডি, নথিপত্র তৈরি এবং সার্ভারে তথ্য আপলোডের স্পর্শকাতর কাজগুলো করে আসছিলেন এই কনস্টেবলরা। তবে সম্প্রতি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মনে তাদের কার্যক্রম নিয়ে তীব্র সন্দেহের সৃষ্টি হয়, যার জের ধরে তাদের থানার কার্যক্রম থেকে সরিয়ে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ ও নন-অপারেশনাল ইউনিট এবং রিজার্ভ শাখায় পাঠোনো হয়েছে।

 

পুলিশের ভেতরের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বদলি হওয়া এসব রাইটারদের অনেকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠছিল। তাদের কেউ কেউ চাকরিচ্যুত কিংবা আত্মগোপনে থাকা সাবেক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা থানার অতি গোপনীয় ও কৌশলগত নথি সাবেক বা প্রভাবশালী মহলের কাছে পৌঁছে দিচ্ছিলেন। সম্প্রতি ঢাকা মহানগর পুলিশের ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার একটি অডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে শুরু করে। আর সেই কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবেই একযোগে আটটি ক্রাইম বিভাগের থানায় কর্মরত রাইটারদের সরিয়ে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় থেকে জারি করা এক আদেশে এই গণবদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও আদেশে আনুষ্ঠানিক কারণ হিসেবে কেবল জনস্বার্থের কথা বলা হয়েছে, তবে তাদের পদায়নের ধরন দেখে বিষয়টি স্পষ্ট যে, নিরাপত্তার স্বার্থেই তাদের নন-অপারেশনাল শাখায় সংযুক্ত করা হয়েছে। সাধারণ নিয়মে একজন রাইটারকে এক থানা থেকে অন্য থানায় বদলি করা হলেও এবার কাউকেই নতুন কোনো থানায় সরাসরি পদায়ন দেওয়া হয়নি। সিংহভাগকেই একযোগে পুলিশ রিজার্ভ বিভাগে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের অনেকের ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্তমানে কঠোর নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে।

 

হঠাৎ এমন গণবদলির ঘটনা থানাগুলোর প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজের ক্ষেত্রে বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি করেছে। থানার কম্পিউটার রাইটারদের তদারকির দায়িত্বে থাকেন উপ-পরিদর্শক বা এসআই পদমর্যাদার কর্মকর্তারা, যাদের বলা হয় স্টেটমেন্ট অফিসার। একাধিক স্টেটমেন্ট অফিসারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, একযোগে এত বিপুলসংখ্যক দক্ষ রাইটারকে সরিয়ে দেওয়া হলেও নতুন করে কাউকে তাদের জায়গায় পদায়ন করা হয়নি। এতে দেখা দিয়েছে চরম জনবল সংকট। থানাগুলোতে এখন দৈনন্দিন প্রতিবেদন তৈরি, জিডি এন্ট্রি ও দাপ্তরিক নথিপত্র সংরক্ষণের মতো জরুরি কাজগুলো থমকে গেছে। সাধারণ মানুষও তাদের প্রত্যাশিত সেবা সময়মতো পেতে কিছুটা ভোগান্তির মুখে পড়ছেন।

 

অন্যদিকে, বদলির তালিকায় থাকা কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাদের বিরুদ্ধে ওঠা তথ্য পাচারের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা জানান, চব্বিশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাদের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় বদলি করে আনা হয়েছিল। কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট তদন্ত বা তথ্যপ্রমাণ ছাড়া এভাবে সবাইকে ঢালাওভাবে সন্দেহ করে বদলি করায় তাদের কর্মস্পৃহা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং তারা বদলি আতঙ্কে ভুগছেন। তবে ঢাকা মহানগর পুলিশের অ্যাডমিন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মো. মাসুদ করিম জানান, এই পদক্ষেপটি প্রশাসনিক কাজের নিয়মিত প্রক্রিয়ারই অংশ, তথ্য পাচারের বিষয়টি সঠিক নয়। তবে কাজের সুবিধা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে অনেককে আগের পদে বহাল রাখার বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে।

 

এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসঅ্যাপ: 01718456839


এরকম আরও সংবাদ