• মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ডোমারের চিলাহাটিতে ১০ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ চিহ্নিত মাদক কারবারি গ্রেফতার ডোমারে চাঞ্চল্যকর একরামুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি ইয়ানুর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার ডোমারে স্বামীর পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় গৃহবধূকে পিটিয়ে গুরুতর জখমের অভিযোগ রংপুরে অপহৃত স্কুলছাত্রী উদ্ধার, প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৫ ওজনে কম ও বেশি দামে পণ্য বিক্রির দায়ে রংপুরে ২ প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বীরগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশে নারী স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত জামালপুরের রাণীগঞ্জে বসতঘর থেকে ২০ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক চোরাচালান ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে বেনাপোলে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রীর কঠোর বার্তা পঞ্চগড়ে প্রান্তিক শিশুদের জন্য পাঠ্যক্রমভিত্তিক স্কুল সিলেবাস থিয়েটার কার্যক্রম শুরু ঘোড়াঘাটে ১৯৯০ পিস ইয়াবাসহ ঝালকাঠির যুবক গ্রেপ্তার

ডোমারে চাঞ্চল্যকর একরামুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি ইয়ানুর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার

আনিছুর রহমান মানিক, সিনিয়র রিপোর্টার (ডোমার) নীলফামারী
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: নীলফামারীর ডোমারে আলোচিত একরামুল হক হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ইয়ানুর রহমানকে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ডোমার থানা-পুলিশের একটি বিশেষ দল আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং গোপন খবরের ওপর ভিত্তি করে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ল এই চাঞ্চল্যকর মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ব্যক্তি। গ্রেপ্তারকৃত ইয়ানুর রহমান ডোমার উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের হলহলিয়া মিরজাগঞ্জ এলাকার মৃত আব্দুর রহিম বুধার ছেলে। ঘটনার পরপরই সে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছিল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে ঢাকায় আত্মগোপন করেছিল।

 

অভিযানের সার্বিক দায়িত্বে থাকা ডোমার থানার উপপরিদর্শক অমিত কুমার দে’র নেতৃত্বে পুলিশ দল ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সেখানে এসআরবি-১ সিপিসি-২ উত্তরা জোনের সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে এক সুনির্দিষ্ট কৌশল গ্রহণ করা হয়। রোববার বিকেলে ঢাকার বিমানবন্দর থানা এলাকা থেকে সফলভাবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরদিন বিকেলে তাকে ডোমার থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। এই গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে মামলার তদন্তে একটি বড় অগ্রগতি সাধিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এলাকার মানুষের মধ্যেও এ নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং ন্যায়বিচারের আশা জাগছে।

 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডোমার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আজগার আলী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, আটককৃত ইয়ানুর রহমান উক্ত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি। তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং মামলার অন্যান্য দিকগুলো ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামীকাল তাকে নীলফামারী জেলার বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। অপরাধীকে আদালতে সোপর্দ করে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

 

ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট রাতে জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের হলহলিয়া মাস্টার পাড়া এলাকার বাসিন্দা একরামুল হক প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে নিজ বাড়ি থেকে বাইরে বের হন। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে রাত গভীর হলেও তিনি আর ঘরে ফেরেননি। স্বজনরা আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারটি চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রাত কাটায়। এই আকস্মিক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে নানা গুঞ্জন ও আশঙ্কার সৃষ্টি হয়।

 

পরদিন ১ সেপ্টেম্বর সকালে মিরজাগঞ্জ কেরানীপাড়া এলাকার একটি ব্রিজের কাছে স্থানীয় লোকজন মারাত্মক আহত অবস্থায় একরামুলকে দেখতে পান। সেখানে অত্যন্ত করুণ ও মর্মান্তিক অবস্থায় গলাকাটা অচেতন পড়ে ছিলেন তিনি। উপস্থিত সবাই দ্রুত তাকে উদ্ধারের ব্যবস্থা করে এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জীবনের সাথে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত ১ সেপ্টেম্বর তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। হাসপাতালে তার এই মৃত্যু পুরো পরিবার ও স্থানীয় অধিবাসীদের গভীর শোকে নিমজ্জিত করে।

 

নিহত একরামুলের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর তার স্ত্রী নাজমা বেগম বাদী হয়ে ডোমার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দায়ের করা এই মামলায় গ্রেপ্তারকৃত ইয়ানুরসহ মোট ৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। স্বজনহারা পরিবারটি এই নৃশংস ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছে। একরামুলকে হারিয়ে তার পরিবার এখন দিশেহারা। তারা চান, যারা একজন নিরপরাধ মানুষকে এভাবে নৃশংসভাবে জীবন থেকে সরিয়ে দিল, আদালত যেন তাদের সর্বোচ্চ উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করেন।

 

এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839


এরকম আরও সংবাদ