আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: রংপুরের গঙ্গাচড়ায় পৈতৃক জমি জমা নিয়ে চলমান পারিবারিক বিরোধের জেরে আয়োজিত এক সালিশি বৈঠকে হামলা, মারধর এবং এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে গুরুতর জখম করার পাশাপাশি স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ওই নারীর গর্ভের সন্তান নষ্টের উদ্দেশ্যে তলপেটে লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনায় উত্তর খলেয়া সরদারপাড়া গ্রামের মো. আব্দুল হাকিম বাদী হয়ে গঙ্গাচড়া থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। দায়ের করা এজাহারে ছয়জন অভিযুক্তের নাম সরাসরি উল্লেখ করার পাশাপাশি আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বাদী মো. আব্দুল হাকিমের পৈতৃক জমি দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত কয়েকজন জোরপূর্বক দখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উক্ত জমি উদ্ধারের উদ্দেশ্যে তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে বিচারের দাবি জানান। এরই প্রেক্ষিতে গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে বাদীর নিজ বাড়ির উঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজপতিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠক চলাকালে বাদী আব্দুল হাকিম নিজের জমির সপক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করার সময় প্রতিপক্ষ উত্তেজিত হয়ে পড়ে। তারা কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং সালিশের কোনো সিদ্ধান্ত তারা মানবেন না বলে জানিয়ে উপস্থিত মুরুব্বিদের সেখান থেকে চলে যেতে বলে।
অভিযোগ উঠেছে, আব্দুল হাকিম এই ধরনের আচরণের প্রতিবাদ জানালে প্রতিপক্ষ এক আসামির সরাসরি নির্দেশে লাঠি, দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও ধারালো হাসুয়া নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা শুরু করলে তার আত্মচিৎকারে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন তার দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী মোছা. ফাতেমা বেগম এবং ছোট ভাই শাহীন বাদশা। এ সময় হামলাকারীরা তাদের ওপরও চড়াও হয়। এজাহারে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, প্রধান আসামি লোহার রড দিয়ে ফাতেমা বেগমের তলপেটে সজোরে আঘাত করেন। এতে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার পরনের পোশাক টানাহেঁচড়া করে অশালীন আচরণ করা হয়।
ঘটনার বিবরণীতে আরও দাবি করা হয়, ফাতেমা বেগম মাটিতে পড়ে থাকার সময় তার গলায় থাকা প্রায় ষাট হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একই সাথে হামলায় বাদীর পরিবারের একাধিক সদস্য শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়ে জখম হন। তাদের আকুল চিৎকার শুনে আশেপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। উপস্থিত জনতার উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা বাদী ও তার পরিবারকে ভবিষ্যতে প্রাণনাশের হুমকি ও নানা ধরণের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে স্থান ত্যাগ করে।
মারধরের ঘটনার পর পরই আহত বাদী ও তার স্ত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে অন্তঃসত্ত্বা ফাতেমা বেগমের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি দেখা দিলে গত ১৪ সেপ্টেম্বর তাকে দ্রুত গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানিয়েছেন, শারীরিক আঘাতের কারণে তার গর্ভের সন্তান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
অন্যদিকে এই ঘটনায় অভিযুক্ত পক্ষের মতামত জানতে তাদের বাড়িতে যাওয়া হলে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে মুঠোফোনে অভিযুক্ত আলী হাসান বাবুর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হলে তিনি ভিন্ন দাবি করেন। তিনি জানান, সালিশ বিচার চলাকালে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাকিম ও তার লোকেরা উল্টো তাকে বেধড়ক মারধর করেছে। এই ঘটনায় তারা নিজেরাও গঙ্গাচড়া মডেল থানায় পৃথক মামলা দায়ের করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
গঙ্গাচড়া থানা সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডবিধির বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক ধারায় এ সংক্রান্ত মামলা রুজু করা হয়েছে। সম্পূর্ণ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং পুলিশের আইনগত ব্যবস্থা ও তদন্ত প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839