ডিজিটাল যুগের সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের এক অপচেষ্টা দেখা গেছে পঞ্চগড়ে। পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বিতর্কিত ছবিকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ছবিটির সত্যতা নিয়ে ধোঁয়াশা দেখা দিলেও মূলত এটি একটি ডিজিটাল কারসাজি এবং প্রতিমন্ত্রীকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ রাজপথে নেমেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
ঘটনার সূত্রপাত হয় সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন পেজ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে। সেখানে একটি কোলাজ ছবি পোস্ট করে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর নামে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য দাবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে সচেতন মহল ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক পর্যালোচনায় স্পষ্ট হয়েছে যে ছবিটি কোনো বাস্তব দৃশ্য নয়, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ফটোশপের মতো আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তৈরি করা একটি অপপ্রচারের হাতিয়ার। কারিগরি দিকগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, ছবির মূল অংশ এবং যুক্ত করা মুখাবয়বের মধ্যে আলোর উৎসের স্পষ্ট অসামঞ্জস্য রয়েছে। এডিটিংয়ের মাধ্যমে শরীরের গঠন ও মুখের অনুপাতে যে অসঙ্গতি তৈরি করা হয়েছে, তা খালি চোখেই ধরা পড়ে। এ থেকেই প্রতীয়মান হয় যে প্রতিমন্ত্রীর ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই এই বিকৃত ছবি তৈরি করা হয়েছে।
এই ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ জানিয়েছেন, ভাইরাল হওয়া ছবিটি সম্পূর্ণ ভুয়া, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। তিনি এটিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের একটি পরিকল্পিত গভীর চক্রান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রতিমন্ত্রীর মতে, মাঠের রাজনীতিতে বা দলীয় কর্মকাণ্ডে তাঁকে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এই ধরনের ডিজিটাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে। সাধারণ জনগণ ও সমর্থকদের কাছে তাঁর দীর্ঘদিনের অর্জিত সম্মান ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করাই এই অপপ্রচারের মূল উদ্দেশ্য বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই সাইবার আক্রমণের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন পঞ্চগড় জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার বিএনপি নেতৃবৃন্দ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা প্রতিবাদী পোস্টের মাধ্যমে ঘটনার আসল সত্য তুলে ধরছেন। একই সাথে এই চক্রান্তের কড়া জবাব দিতে দলীয় কার্যালয়ে জরুরি প্রতিবাদ সভা ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। দলটির শীর্ষ নেতারা একমত হয়েছেন যে, রাজনীতিকে কালিমালিপ্ত করতে যারা এ ধরনের জঘন্য অপকর্মের আশ্রয় নিয়েছে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। অতি দ্রুত এই সাইবার অপরাধের সাথে জড়িত কুচক্রী মহলকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।

বর্তমান সময়ে রাজনীতি ও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করা কিংবা সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি ছড়াতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে ডিপফেক ও ফ্যাব্রিকেটেড কন্টেন্ট তৈরির প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে ব্যক্তিত্ব হননের এই অপরাজনীতি সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য এক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের তথ্য বা ছবি যাচাই-বাছাই না করে অন্ধভাবে বিশ্বাস করা বা সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকার জন্য সাধারণ জনগণের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।