রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার ৮ নম্বর আলমবিদিতর ইউনিয়নের সয়ড়াবাড়ি কমিউনিটি ক্লিনিক ঘিরে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার নানা অভিযোগ উঠে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ক্লিনিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার সময়মতো আসেন না এবং সময় শেষ হওয়ার আগেই চলে যান। একই সাথে সরকারি বিনামূল্যের ওষুধ দেওয়ার সময় টাকা নেওয়া এবং দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনায় গাফিলতির কারণে ওই এলাকার সাধারণ ও হতদরিদ্র মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
বুধবার সকাল ৯টার দিকে সেখানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্লিনিক খোলা থাকার কথা থাকলেও সয়ড়াবাড়ি কমিউনিটি ক্লিনিকটিতে তখনো ঝুলছিল তালা। পরবর্তীতে দুপুর ১২টার দিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত সিএইচসিপি মল্লিকা রানী এসে তালা খুলে ভেতরে ঢোকেন এবং সেবা দেওয়া শুরু করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত সিএইচসিপি মল্লিকা রানী সময়ের নিয়মে ব্যত্যয় ঘটার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, তার ছোট সন্তান অসুস্থ থাকার কারণে সেদিন আসতে কিছুটা দেরি হয়। ওষুধ বিতরণের ক্ষেত্রে অর্থ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, কেউ স্বেচ্ছায় টাকা দিলে তা গ্রহণ করা হয় এবং এ বিষয়ে তাদের অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে সেবা নিতে আসা স্থানীয়দের অভিজ্ঞতা অন্যরকম। তাদের ভাষ্যমতে, সকাল থেকে পরিষেবা চালু থাকার কথা থাকলেও কর্মকর্তা প্রায়শই দুপুর ১২টার দিকে উপস্থিত হন। এরপর মাত্র এক ঘণ্টার মতো অবস্থান করে দুপুর ১টা বাজতেই আবার তালা বন্ধ করে চলে যান। প্রতিদিন এই অল্প সময় ক্লিনিক খোলা রাখার ফলে বহুদূর থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা কিংবা প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহ করতে আসা বহু রোগীকে খালি হাতে ফিরে যেতে বাধ্য হতে হয়।
সয়ড়াবাড়ি গ্রামের একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, মল্লিকা রানী নিয়মিতভাবেই দুপুর ১২টার দিকে উপস্থিত হন। সময়মতো না আসায় সেখান থেকে ঠিকমতো ওষুধ বা সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তদুপরি ওষুধ পাওয়ার বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার চর্চা চলায় চরম বিপাকে পড়ছেন দরিদ্র মানুষজন।
অনিয়মিত সেবা ছাড়াও ক্লিনিক চত্বরের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে উঠেছে বিস্তর প্রশ্ন। পুরো প্রাঙ্গণটি নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় পড়ে থাকে। তদুপরি সেবা নিতে আসা রোগীদের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য যে টিউবওয়েলটি স্থাপন করা হয়েছিল, সেটিও দীর্ঘদিন যাবত বিকল হয়ে আছে। ফলে চিকিৎসা নিতে এসে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে পড়তে হচ্ছে মানুষকে।
এই পুরো পরিস্থিতির বিষয়ে অবগত করা হলে গংগাচড়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানান, এই মাধ্যমেই অভিযোগটি প্রথম তার গোচরে এসেছে। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখে সত্যতা মেলা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
একই বিষয়ে গংগাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তারও একই কথা বলেন। তিনি জানান, তথ্যটি জানার পরপরই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ অবস্থায় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের দাবি, এই অনিয়মের সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক, যাতে সয়ড়াবাড়ি কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রান্তিক মানুষ নিয়মিত ও উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা লাভ করতে পারে।