নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পাইটকা পাড়া গ্রামে এক অসহায় পরিবারের শেষ সম্বল জমিটুকু দখলের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। স্বজনহারা ও পিতৃহীন একটি পরিবারের জমিতে রোপণ করা গাছগাছালি কেটে ফেলা এবং বেড়া ভেঙে তছনছ করার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে চলেছে একের পর এক। প্রতিপক্ষের অনৈতিক দাবি এবং অব্যাহত হুমকির মুখে এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা গেছে, পাইটকা পাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত জমির উদ্দিনের ছেলে মাহাবুবার রহমান ১৯৭৩ সালে একই এলাকার মৃত তমিজ উদ্দিন সরকারের ছেলে আজিজ উদ্দিন সরকারের কাছ থেকে ৬৩৮৫ নম্বর দলিল মূলে ৩২ শতক জমি ক্রয় করেন। জমি ক্রয়ের পর থেকেই মাহাবুবার রহমান অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সেটিতে চাষাবাদ ও ভোগদখল করে আসছিলেন। তবে ২০০০ সালে মাহাবুবার রহমান তাঁর স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানকে রেখে মারা যান। তিনি মৃত্যুবরণ করার পর থেকেই এই সহায়-সম্বলহীন পরিবারটির ওপর নজর পড়ে এলাকার মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে আফজালুর রহমানের। তিনি সম্পূর্ণ অন্যায় ও অনৈতিকভাবে ওই জমি নিজের দাবি করে পরিবারটিকে নানাভাবে চাপ দিতে থাকেন।
মাহাবুবার রহমানের বিধবা স্ত্রী রওশন আরা ও তাঁর সন্তানেরা যখনই নিজেদের জমিতে ফসল বুনতে বা আবাদ করতে গেছেন, তখনই আফজালুর রহমান ও তাঁর লোকজন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। প্রতিপক্ষের অত্যাচার থেকে জমিটি রক্ষা করতে এবং নিজেদের মালিকানা বজায় রাখতে কয়েক দিন আগে রওশন আরা ও তাঁর সন্তানেরা জমিতে কিছু নতুন গাছ লাগান। একই সঙ্গে সিমেন্টের পিলার পুতে ও লোহার নেট দিয়ে সম্পূর্ণ জায়গাটি ঘিরে দেন। কিন্তু আইনকানুনের তোয়াক্কা না করে রাতের অন্ধকারে প্রতিপক্ষের লোকজন সেই জমির সমস্ত গাছ উপড়ে ফেলে ও ভেঙে দেয়। সেই সঙ্গে বেড়া দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত মূল্যবান জিনিসপত্রগুলোও তারা খুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
একদিকে স্বজন হারানোর বেদনা, অন্যদিকে ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়া এই পরিবারটি প্রতিপক্ষের কোনো ধরনের হুমকি-ধমকিতে দমে না গিয়ে নিজেদের অধিকার রক্ষায় আবারো চেষ্টা চালায়। গত ৩০ জুলাই সকালে মৃত মাহাবুবার রহমানের স্ত্রী ও সন্তানেরা জমিটিতে নতুন করে আবারও বেশ কিছু গাছ রোপণ করেন এবং চারপাশ নেটের জাল দিয়ে নতুন করে ঘিরে দেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, দিনের আলোতেই প্রতিপক্ষের লোকজন সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিবারটির লোকজনকে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখায় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
জমির বিরোধ এবং ভাঙচুরের বিষয়ে অভিযুক্ত আফজালুর রহমানের কাছে তাঁর বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি ভিন্ন দাবি করেন। তিনি জানান, তিনি নাকি মাহাবুবারের কাছ থেকে অতীতে দুই বিঘা জমি ক্রয় করেছিলেন। কিন্তু মাহাবুবারের ছেলেরা কৌশলে বা চালাকি করে জমির জাবেদা নকল তুলে তাঁকে কেনা জমি বুঝিয়ে দিচ্ছে না।
তবে ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা আফজালুর রহমানের এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও জমি দখলের পাঁতারা বলে অভিহিত করেছেন। নিজের বাপদাদার রেখে যাওয়া শেষ সম্বলটুকু রক্ষা করতে এবং প্রতিপক্ষের অন্যায় প্রভাব থেকে বাঁচতে মৃত মাহাবুবার রহমানের পরিবার এখন প্রশাসনের সহায়তা চেয়ে আকুল আবেদন জানিয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করছেন, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে এই জালিয়াতি ও জোরজবরদস্তির অবসান ঘটাবে এবং একটি পিতৃহীন পরিবারকে পথে বসা থেকে রক্ষা করবে।