সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর একটি ভিডিওর সঙ্গে নিজের ছবি জুড়ে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী এক তরুণী। শুক্রবার বিকেলে পঞ্চগড় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, ভাইরাল সেই ভিডিওটির সাথে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। পরিকল্পিতভাবে তার ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর মাধ্যমে সামাজিক ও মানসিকভাবে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পঞ্চগড়ের মকবুলার রহমান সরকারি কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী রাহিমিন মারিয়া এলিন নিজের জীবনের কঠিন পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ছোটবেলাতেই বাবা-মাকে হারিয়ে নানা প্রতিকূলতার সাথে লড়াই করে তাকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এমন অবস্থায় এই ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার তার জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে এলিন বলেন, একটি রেস্টুরেন্টে সামাজিক ও সামাজিক সংগঠনের কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করার সময় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর সাথে তার একটি ছবি তোলা হয়েছিল। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে, সেই ভিডিওর সাথে তার ছবিটি যুক্ত করে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করতে শুরু করে কিছু ফেসবুক আইডি ও পেজ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই এবং তিনি কোনো রাজনৈতিক দল বা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। অথচ তাকে একেক সময় একেক ধর্মের কিংবা ভিন্ন পরিচয়ের ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করে মনগড়া গল্প বানিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার কয়েকদিন আগেই তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তোলা ছবিটি পোস্ট করেছিলেন। পরবর্তীতে ভুল বোঝাবুঝির শঙ্কা থেকে ছবিটি মুছে ফেললেও, তার আগেই একটি চক্র ছবিটি সংরক্ষণ করে এই অপপ্রচারে ব্যবহার করে।
এই অপপ্রচারের কারণে চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন বলে জানান এই শিক্ষার্থী। স্বাভাবিক সামাজিক জীবনযাপন ও চলাফেরায় তার ভয় ও সংকোচ তৈরি হয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচারিত এসব তথ্য তার ব্যক্তিগত সম্মান, সামাজিক অবস্থান ও ভবিষ্যতের ওপর মারাত্মক আঘাত হেনেছে।
নিজের ওপর ঘটা এই অন্যায়ের বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এলিন দাবি করেন, ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো সাধারণ মানুষকে এমন হয়রানির শিকার হতে না হয়।