রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তথা ডিবি এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ২ হাজার ৪০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ৭ নম্বর গজঘণ্টা ইউনিয়নের তালুকহাবু মৌজার নিশাত বেনারসি দোকানের সামনে কাকিনা-রংপুর আঞ্চলিক সড়কে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযান চলাকালে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে পুলিশ।
রংপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এর তত্ত্বাবধানে ডিবির ওসি মো. সোহেল রানার নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানের মূল দায়িত্বে ছিলেন এসআই মো. সাহানুর আলম সরকার এবং তার সঙ্গে থাকা বিশেষ পুলিশ ফোর্স। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা ওই এলাকায় অবস্থান নেন এবং একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থামিয়ে তল্লাশি চালান। তল্লাশিকালে মোটরসাইকেলের সিটের নিচে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ২ হাজার ৪০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া এই মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
এই ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর এলাকার মো. সুমন মিয়া, যার বয়স আনুমানিক ২৮ বছর, এবং লালমনিরহাট সদর উপজেলার দেউতিরহাট পঞ্চগ্রাম এলাকার মোছা. লুনা আক্তার সুমি, যার বয়স আনুমানিক ২৫ বছর।
ডিবি পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত তৎপরতার সাথে ঘটনাস্থলেই তাদের হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে তাদের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, একটি ১৩৫ সিসি ডিসকভার মোটরসাইকেল এবং দুটি মোবাইল ফোন আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জব্দ করা হয়।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও আইনবিরোধী তৎপরতার ঘটনায় গঙ্গাচড়া মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। জেলা পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটককৃত এই বিপুল পরিমাণ মাদকের মূল উৎস কোথায় এবং এর পেছনে আর কোন কোন ব্যক্তিরা জড়িত রয়েছেন, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে নিবিড় তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হয়েছে।