আমাদের দেশের উন্নয়ন ভাবনায় প্রায়শই মালয়েশিয়া কিংবা সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলোর উদাহরণ টানা হয়। তবে এই প্রচলিত চিন্তার বাইরে গিয়ে ভিন্ন এক রূপরেখা উপস্থাপন করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের আদলে নয়, বরং দেশের বিশাল মানবসম্পদকে দক্ষ ও সময়োপযোগী করে তোলার মাধ্যমেই একটি আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বর্তমান তরুণ সমাজ যদি সঠিক কারিগরি ও ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন করতে পারে, তবে এই দেশের অগ্রযাত্রা কেউ থামিয়ে রাখতে পারবে না।
শুক্রবার দুপুরে পঞ্চগড়ে স্বপ্ন পুরন অর্গানাইজেশন আয়োজিত স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইয়ুথ সামিট সেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রতিমন্ত্রী তরুণদের উদ্দেশে বলেন, বর্তমান যুবসমাজকে যদি যুগের চাহিদার সঙ্গে মিলিয়ে দক্ষ করে তোলা যায়, তবে বাংলাদেশের পক্ষে উন্নতির শিখরে পৌঁছানো অত্যন্ত সহজ হবে। আর এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে একটি নতুন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
বর্তমান জেন জি বা নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী পঞ্চগড় জেলাকে কেন্দ্র করে তাঁর কিছু সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, শুধু সনাতন বা তথাকথিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থা দিয়ে বর্তমান যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। এই কারণে পঞ্চগড় জেলায় আগামী দিনে টেকনিক্যাল বা কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করে জেলার বেকারত্ব পুরোপুরি দূর করার পরিকল্পনা ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। সরকার মূলত কারিগরি শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও দূরদর্শী মানবসম্পদ তৈরি করতে চায়।
অনুষ্ঠানে নিজের জীবনসংগ্রামের একটি অনুপ্রেরণামূলক অধ্যায়ও উপস্থিত তরুণদের সামনে তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার এক মফস্বল অজপাড়াগাঁ পাঁচপীর থেকে উঠে এসে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে তাঁর যে দীর্ঘ পথচলা, স্বপ্ন ও গভীর অধ্যাবসায় ছিল, সেই গল্প তিনি ভাগ করে নেন। শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করে তিনি বলেন, জীবনকে অর্থপূর্ণ করতে হলে এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সফল হতে হলে কঠোর অধ্যাবসায় ও কর্মনিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। নিজেদের মেধা ও শ্রমের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে প্রতিটি তরুণকে মাঠপর্যায়ে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে।
স্বপ্ন পুরন অর্গানাইজেশনের সভাপতি মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সামিটে বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ, ক্রিয়েটিভ আইটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মনির হোসেন, মকবুলার রহমান সরকারি কলেজের গণিত বিভাগের অধ্যাপক আনসার আলী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চি, সদর পৌর বিএনপির নেতা আব্দুল্লাহ আল রণিক এবং এনসিপি জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক শিশির আসাদ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষক এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে যুব সামিটের অংশ হিসেবে আয়োজিত কুইজসহ অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক ইভেন্টে অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধান অতিথি।