অট্টালিকার ছায়া পড়ে না এই মেঠো আলপথের ধারে,
যেথা আকাশ মেশে মাটির গন্ধে— রোদে পোড়া হাহাকারে।
কৃষকের ওই লাঙল চিরে সোনার স্বপ্ন জাগে,
রবির আলোয় নবান্ন হাসে— শিশির-ভেজা আগে।
শরৎবাবু কি দেখেছিলেন এমন কপাল-ঘাম?
আমি খুঁজি নিঝুম গাঁয়ের কাঙাল কৃষকের নাম।
কালজয়ী সব লেখায় ছিল যাদের যাতনার ইশারা,
নিঝুম গাঁয়ের মেঠো পথে আজও তারা দেয় সাড়া।
সেই বাংলার ঘাস-পাতা আর তপ্ত দুপুরের ধুলো,
মাঝির বৈঠায় উজান ঠেলে— বয়ে যায় দিনগুলো।
রোদে পোড়া পিঠ, ফাটা এই মাটি— জীবনের আসল রূপ,
তপ্ত হাওয়ায় হাহাকার ওঠে, তবু পৃথিবী বড় নিশ্চুপ।
শ্রমিক যে জন রক্ত জল করে— গড়ে তোলে সব নীড়,
তারাই আড়ালে হারিয়ে যায়— দেখে না অট্টালিকার ভিড়।
দেহ ছাড়া নেই তো কিছু— এ কথা তাদেরই সাজে,
যারা খুঁজে পায় পরম সুখ— মেহনতি সব কাজে।
নদীর স্রোতে মাঝির গান আর নবান্নের ওই ঘ্রাণ,
তারাই আসলে আগলে রেখেছে— এই ধরণীর প্রাণ।
যে ঘামে ভিজেছে মাটির বুক, সে ঘামই শ্রেষ্ঠ দান,
অট্টালিকার জৌলুস তুচ্ছ— কৃষকের ওই গান।
পাহাড় হওয়ার নেশা নেই কারো— সবাই নদীর মতো,
বয়ে চলে তারা সাগর পানে— সয়ে যাতনা যত।