রংপুরের মিঠাপুকুরে বিষাক্ত মাদক সেবন করিয়ে চারজন মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়ার ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ দুই সহোদরকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাব। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একটি চৌকস দল ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আইনের আওতায় আনে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার খোর্দ্দ কোমরপুর এলাকার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম ও তার আপন ভাই মো. শফিকুল ইসলাম। এদের মধ্যে পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সী রফিকুল ইসলাম এই বর্বরোচিত ও বিয়োগান্তক হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি এবং তার ভাই শফিকুল ইসলামের বয়স চল্লিশ বছর। ঘটনার পর থেকেই তারা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে ছিলেন।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, এই লোমহর্ষক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে র্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১৩, রংপুর এবং র্যাব-৪, সাভারের একটি যৌথ দল গত ৭ জুন সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে ঢাকার আশুলিয়ার নিরিবিলি এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। সেখান থেকেই পলাতক দুই ভাইকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।
এই বেদনাদায়ক ঘটনার বিবরণ এবং মামলার নথি থেকে জানা যায়, অবৈধ মাদক ব্যবসা ও এর অর্থ লেনদেন নিয়ে আসামিদের সঙ্গে ভিকটিমদের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। এই বিরোধের জেরে গত ৩০ মে রাতে প্রধান আসামি রফিকুল ইসলাম অত্যন্ত সুকৌশলে পঞ্চান্ন বছর বয়সী সাজু মিয়া এবং তার অপর তিন বন্ধুকে স্থানীয় একটি আম ও মালটা বাগানে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তাদের অতিরিক্ত মাত্রার বিষাক্ত মদ পান করানো হয়। মাদক সেবনের কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা সবাই তীব্র অসুস্থতা অনুভব করেন এবং কোনোমতে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান।
পরবর্তীতে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সাজু মিয়াকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১ জুন তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই একই বিষাক্ত মদপানের ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা অপর তিন বন্ধুও সময়ের ব্যবধানে নিজ নিজ স্থানে চিকিৎসাধীন বা অসুস্থ অবস্থায় মারা যান। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে চারটি তাজা প্রাণ ঝরে পড়ার এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় নিহত সাজু মিয়ার ভাগনে জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ২ জুন মিঠাপুকুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দণ্ডবিধির ৩০২, ৩২৮ এবং ৩৪ ধারায় দায়ের করা এই মামলায় রফিকুল ইসলাম ও তার ভাইসহ জড়িতদের অভিযুক্ত করা হয়। ঢাকা থেকে গ্রেফতারের পর এই দুই আসামিকে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণের জন্য সংশ্লিষ্ট মিঠাপুকুর থানায় যথাযথ প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সিনিয়র এএসপি বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, সমাজ থেকে এই ধরনের অপরাধ ও অপরাধীদের নির্মূল করতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন তৎপরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।