• সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ঘোড়াঘাটে ১৯৯০ পিস ইয়াবাসহ ঝালকাঠির যুবক গ্রেপ্তার ডিমলায় জ্বালানি বিক্রি বন্ধকে কেন্দ্র করে ফিলিং স্টেশন মালিকের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ, আহত ২ বীরগঞ্জে আখ ক্ষেতে জুয়ার আসর থেকে ২ জন আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা ও কারাদণ্ড অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মুখে নীলফামারীতে অপসারিত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কেরানীগঞ্জে ডিবির অভিযানে ১৪ গ্রাম হেরোইনসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার দল নয়, মানুষই আমার প্রতীক: দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্রার্থী ফরিদ সরকার বেনাপোল ইমিগ্রেশনে কাস্টমস গোয়েন্দার অভিযান: যাত্রীর শরীরে মিলল ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকার স্বর্ণ শার্শার রুদ্রপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযান, ৫৫০ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ উদ্ধার খগাখড়িবাড়ীর রাজনীতিতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন এবং স্থানীয়দের মূল্যায়নের বিশ্লেষণ বীরগঞ্জে টিএমএসএস করিমপুর ফাতেমাতুজ জোহরা হাসপাতালের সৌজন্যে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

ছাগল বাঁধাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে প্রাণ হারালেন সুধীর চন্দ্র, স্বজনদের আহাজারি

আনিছুর রহমান মানিক, সিনিয়র রিপোর্টার। ডোমার (নীলফামারী)
সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার কেতকীবাড়ী ইউনিয়নে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হওয়ার ছয় দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুধীর চন্দ্র রায় নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার কেতকীবাড়ী ইউনিয়নের ভুজারীপাড়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় সুধীর চন্দ্রের স্ত্রী রাধিকা রানীও গুরুতর আহত হন।

স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভুজারীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত সুরেন্দ্রনাথ রায়ের ছেলে সুধীর চন্দ্র রায়ের সঙ্গে প্রতিবেশী শামসুল হকের ছেলে মশিয়ার রহমানের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ছিল। গত ৩১ মে দুপুরে মশিয়ার রহমানের একটি পালিত ছাগল সুধীর চন্দ্রের জমিতে বেঁধে রাখাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিরোধ চরম আকার ধারণ করলে মশিয়ার রহমান, তার ছেলে ফাহিম এবং স্ত্রী ফাতেমা বেগম সংঘবদ্ধ হয়ে সুধীর চন্দ্র ও তার স্ত্রী রাধিকা রানীর ওপর লাঠিসোটা নিয়ে চড়াও হন এবং তাদের বেধড়ক মারপিট করেন।

প্রতিপক্ষের এমন অতর্কিত ও নৃশংস হামলায় সুধীর চন্দ্র এবং রাধিকা রানী দুজনেই গুরুতর জখম ও অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঘটনার পরপরই প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তিন দিন ধরে নিবিড় চিকিৎসাসেবা নেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তারা বাড়ি ফিরে আসেন। কিন্তু বাড়ি ফেরার পরও সুধীর চন্দ্রের শারীরিক জটিলতা কাটেনি। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৬ মে রাত ২টার দিকে নিজ বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সুধীর চন্দ্র।

খবর পেয়ে কেতকীবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রশিদুল ইসলাম রোমান এবং ডোমার থানার পরিদর্শক তদন্ত আজগার আলী দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ সুধীর চন্দ্রের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ নীলফামারী জেলা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এদিকে সুধীর চন্দ্রের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার ও পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের বুকফাটা কান্না আর আহাজারিতে চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সরাসরি অভিযোগ করা হয়েছে যে, গত ৩১ মে প্রতিপক্ষের করা সেই নিষ্ঠুর মারপিট ও আঘাতের কারণেই সুধীর চন্দ্রের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত মশিয়ার রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন সুধীর চন্দ্রের অসহায় পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।


এরকম আরও সংবাদ