রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় মহাসড়কে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৫ বোতল নিষিদ্ধ নেশাজাতীয় মাদকদ্রব্য এসকাফ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক মাদক কারবারিকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। আটক হওয়া ওই তরুণের নাম মো. আব্দুল মোন্নাফ। ২৪ বছর বয়সী এই যুবক কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার গোরক মন্ডল এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি মৃত মজিদুল খন্দকারের ছেলে।
রংপুর জেলা পুলিশের কাউনিয়া থানার একটি চৌকস দল গত ৭ জুন ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কাউনিয়া বাসস্ট্যান্ড ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে একটি বিশেষ অবস্থান নেয়। কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট থেকে রংপুরগামী মহাসড়কে তখন নিয়মিত যানবাহন তল্লাশি চলছিল। এমন সময় একটি চলন্ত অটোচার্জার গাড়িকে থামানোর জন্য সংকেত দেয় পুলিশ। তখন গাড়ির ভেতরে যাত্রীবেশে বসে থাকা আব্দুল মোন্নাফ পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে যান। নিজেকে বাঁচাতে তিনি আচমকা গাড়ি থেকে নেমে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। তবে তার সেই চেষ্টা সফল হয়নি। কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে ধাওয়া করে তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলেন এবং আটক করতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে তার দেহ ও সাথে থাকা জিনিসপত্র তল্লাশি করে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ২৫ বোতল নেশাজাতীয় মাদকদ্রব্য এসকাফ উদ্ধার করা হয়।
আটক করার পর কাউনিয়া থানার পুলিশ সদস্যরা আব্দুল মোন্নাফকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধভাবে এই ধরনের নেশাজাতীয় মাদকদ্রব্য পরিবহন ও ক্রয়-বিক্রয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। দেশের যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া এই নিষিদ্ধ মাদকের চালানটি তিনি কোথায় নিয়ে যাচ্ছিলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এই আইনবিরোধী তৎপরতার প্রেক্ষিতে জব্দকৃত আলামতসহ অভিযুক্ত আব্দুল মোন্নাফকে কাউনিয়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১৪(খ) ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। দায়েরকৃত এই মামলার নম্বর ০৭ এবং তারিখ ৭ জুন ২০২৬। কাউনিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃত ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় সকল আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর যথাযথ সুরক্ষায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশের এই ধরনের কঠোর নজরদারি ও অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।