রংপুরের তারাগঞ্জে পল্লীবিদ্যুতের একজন কর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি মো. মহাব্বত আলীকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাব। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে ঢাকার সাভার এলাকা থেকে তাকে আইনের আওতায় আনা হয়। গ্রেফতারকৃত ৩১ বছর বয়সী মহাব্বত আলী এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী এবং মামলার প্রধান অভিযুক্ত।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, মামলার পর থেকেই প্রধান আসামি মহাব্বত আলী দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করেছিলেন। তার অবস্থান নিশ্চিত করার পর র্যাব-১৩, সিপিএসসি রংপুর এবং র্যাব-৪ এর একটি চৌকস যৌথ দল গত ৭ জুন সন্ধ্যায় ঢাকার সাভারের বৌ বাজার এলাকায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। সেখান থেকেই তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিবরণ এবং মামলার নথি থেকে জানা যায়, পল্লীবিদ্যুতের ঠিকাদারের অধীনে ইলেকট্রিক মিস্ত্রি হিসেবে কর্মরত ছিলেন ৪৫ বছর বয়সী মঞ্জুরুল হোসেন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি কাজের উদ্দেশ্যে তিনি নিজের বাড়ি থেকে বের হন, কিন্তু এরপর আর বাড়ি ফিরে আসেননি। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে নিহতের স্ত্রী জান্নাতি বেগম বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করেন। নিখোঁজের দুদিন পর, অর্থাৎ ২৬ ফেব্রুয়ারি তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের একটি আলুর ক্ষেতের ভেতর থেকে মাটিচাপা অবস্থায় মঞ্জুরুল হোসেনের নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার তদন্তে নেমে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানতে পারে যে, পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরেই এই বিয়োগান্তক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট চরম বিরোধের কারণে প্রধান আসামি মহাব্বত আলী এবং তার সহযোগীরা মিলে মঞ্জুরুল হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করে। অপরাধ আড়াল করার উদ্দেশ্যে তারা মরদেহটি কুর্শা ইউনিয়নের ওই আলুর ক্ষেতে মাটিচাপা দিয়ে রাখে এবং নিহতের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও বর্বরোচিত ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী জান্নাতি বেগম বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় একটি সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত ও প্রযুক্তির সহায়তায় অবশেষে মামলার প্রধান আসামিকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলো। এই অভিযানের বিষয়ে র্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সিনিয়র এএসপি বিপ্লব কুমার গোস্বামী নিশ্চিত করেছেন যে, গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম ও আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় যথাযথ প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতেও কাজ চলছে।