• মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
মিঠাপুকুরে বিষাক্ত মদপানে চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান আসামিসহ দুই ভাই আশুলিয়া থেকে গ্রেফতার তারাগঞ্জে পল্লীবিদ্যুৎ কর্মী হত্যা মামলার প্রধান আসামি মহাব্বত আলী সাভার থেকে গ্রেফতার পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালানোর চেষ্টা, অবশেষে ২৫ বোতল এসকাফসহ ধরা পড়লেন কুড়িগ্রামের তরুণ সাধারণ থেকে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির শীর্ষ নেতৃত্বে ফাইট ডিরেক্টর আরমান ছাগল বাঁধাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে প্রাণ হারালেন সুধীর চন্দ্র, স্বজনদের আহাজারি বীরগঞ্জে ১০ লাখ টাকার ইয়াবাসহ কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী জয়নাল গ্রেফতার বীরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত চারজন কারাগারে, অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা জেলা পুলিশ সুপারদের ওপর ত্রিমুখী নজরদারি: গোয়েন্দা, স্বরাষ্ট্র ও পুলিশ সদর দপ্তর ডোমার কেতকীবাড়ীতে টাকা লেনদেনের দ্বন্দ্বে মারপিট, সাবেক ইউপি সদস্য গ্রেফতার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সততার বার্তা নিয়ে পীরগাছা থানায় রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক

ছাগল বাঁধাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে প্রাণ হারালেন সুধীর চন্দ্র, স্বজনদের আহাজারি

আনিছুর রহমান মানিক, সিনিয়র রিপোর্টার। ডোমার (নীলফামারী)
সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার কেতকীবাড়ী ইউনিয়নে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হওয়ার ছয় দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুধীর চন্দ্র রায় নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার কেতকীবাড়ী ইউনিয়নের ভুজারীপাড়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় সুধীর চন্দ্রের স্ত্রী রাধিকা রানীও গুরুতর আহত হন।

স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভুজারীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত সুরেন্দ্রনাথ রায়ের ছেলে সুধীর চন্দ্র রায়ের সঙ্গে প্রতিবেশী শামসুল হকের ছেলে মশিয়ার রহমানের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ছিল। গত ৩১ মে দুপুরে মশিয়ার রহমানের একটি পালিত ছাগল সুধীর চন্দ্রের জমিতে বেঁধে রাখাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিরোধ চরম আকার ধারণ করলে মশিয়ার রহমান, তার ছেলে ফাহিম এবং স্ত্রী ফাতেমা বেগম সংঘবদ্ধ হয়ে সুধীর চন্দ্র ও তার স্ত্রী রাধিকা রানীর ওপর লাঠিসোটা নিয়ে চড়াও হন এবং তাদের বেধড়ক মারপিট করেন।

প্রতিপক্ষের এমন অতর্কিত ও নৃশংস হামলায় সুধীর চন্দ্র এবং রাধিকা রানী দুজনেই গুরুতর জখম ও অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঘটনার পরপরই প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তিন দিন ধরে নিবিড় চিকিৎসাসেবা নেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তারা বাড়ি ফিরে আসেন। কিন্তু বাড়ি ফেরার পরও সুধীর চন্দ্রের শারীরিক জটিলতা কাটেনি। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৬ মে রাত ২টার দিকে নিজ বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সুধীর চন্দ্র।

খবর পেয়ে কেতকীবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রশিদুল ইসলাম রোমান এবং ডোমার থানার পরিদর্শক তদন্ত আজগার আলী দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ সুধীর চন্দ্রের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ নীলফামারী জেলা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এদিকে সুধীর চন্দ্রের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার ও পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের বুকফাটা কান্না আর আহাজারিতে চারপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সরাসরি অভিযোগ করা হয়েছে যে, গত ৩১ মে প্রতিপক্ষের করা সেই নিষ্ঠুর মারপিট ও আঘাতের কারণেই সুধীর চন্দ্রের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত মশিয়ার রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন সুধীর চন্দ্রের অসহায় পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।


More News Of This Category