নীলফামারীর ডোমারে নারীদের স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এক বিশেষ সেলাই প্রশিক্ষণের যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের এসেট প্রকল্পের আওতায় ৯০ দিন মেয়াদি এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে ডোমার থানা সংলগ্ন প্রশিকা কার্যালয়ের হলরুমে এক উৎসাহব্যঞ্জক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। রবিবার সকাল দশটায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সেলাই প্রশিক্ষণ কর্মশালার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন ডোমার থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাবিবুল্লাহ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডোমার থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাবিবুল্লাহ প্রশিক্ষণার্থীদের মনোযোগ ও নিষ্ঠার সাথে কাজ শেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে এ ধরনের কারিগরি প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীরা নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। প্রশিকার এই মানবিক উদ্যোগ এলাকার অবহেলিত ও সম্ভাবনাময় নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে একটি বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রশিকা নীলফামারী, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জোনের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোক্তার হোসেন। প্রশিকা ডোমার এলাকা ব্যবস্থাপক প্রশান্ত কুমার কুন্ডু’র অত্যন্ত চমৎকার ও সাবলীল উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালক রিজুওয়ানুস শামীম রাজিব। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপক আহমেদ জগলুল পাশা খান এবং প্রশিক্ষণার্থীদের পথপ্রদর্শক ও প্রশিক্ষক কামরুন নাহার মনি।
আলোচনা সভায় প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালক রিজুওয়ানুস শামীম রাজিব প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে এক বড় প্রতিশ্রুতির কথা জানান। তিনি বলেন, প্রশিকা কেবল প্রশিক্ষণ দিয়েই তার দায়িত্ব শেষ করবে না। এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিটি প্রশিক্ষণার্থীকে এক একজন সফল ও স্বাধীন উদ্যোক্তা হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা। ৯০ দিনের এই দীর্ঘ প্রশিক্ষণ শেষে প্রতিটি নারী যেন ঘরে বসে বা নিজস্ব উদ্যোগে কাজ শুরু করে নিজেকে পুরোপুরি স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে পারেন, সেজন্য প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক ও সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে সাজানো এই বিশেষ প্রশিক্ষণে প্রথম পর্যায়ে মোট ৪৮ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। প্রশিক্ষণের মান ও কার্যকারিতা বজায় রাখতে পুরো কার্যক্রমটিকে দুটি আলাদা ব্যাচে বিভক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ব্যাচে সকালের শিফটে ৯০ দিন মেয়াদে মোট ২৪ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন। অন্যদিকে, দ্বিতীয় ব্যাচে বিকালের শিফটে ২১ দিন মেয়াদে আরও ২৪ জন প্রশিক্ষণার্থীকে নিবিড়ভাবে সেলাইয়ের যাবতীয় খুঁটিনাটি ও ব্যবহারিক কাজ শেখানো হচ্ছে। সম্পূর্ণ নতুন এই কর্মমুখী বিদ্যা শিখে প্রশিক্ষণার্থীরা তাদের নিজেদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে পারবেন এবং পরিবারে আর্থিক অবদান রাখতে সক্ষম হবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া নারীদের চোখে-মুখে ছিল স্বাবলম্বী হওয়ার এক নতুন স্বপ্ন ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার গভীর আকুলতা।