দিনাজপুরের বীরগঞ্জে মাদকের করাল গ্রাস থেকে সমাজকে রক্ষা করতে কঠোর অবস্থানে নেমেছে স্থানীয় প্রশাসন। শনিবার দুপুরে পৌরসভা এলাকায় পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে মাদক সেবনরত অবস্থায় তিনজনকে হাতেনাতে আটকের পর কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একই অভিযানে মাদক মামলার আরও এক সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মাদক বিক্রেতা কিংবা সেবনকারী যেই হোক না কেন, বীরগঞ্জে কারও কোনো নিস্তার নেই।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, ৯ মে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বীরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি চৌকস দল পৌরসভার ০২ নম্বর ওয়ার্ডের গোলাপগঞ্জ মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাদক ব্যবসায়ীদের তিনটি বাড়িতে এই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়। অভিযান চলাকালীন উত্তর সুজালপুর কলেজ মোড় এলাকার রাশেদুল ইসলাম, নাহিদ ইসলাম সবুজ এবং রুবেল ইসলাম মামুনকে মাদক সেবনরত অবস্থায় হাতেনাতে ধরে ফেলে পুলিশ। আটককৃতদের বয়স যথাক্রমে ৩০, ৩২ এবং ৩৫ বছর।
তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন বীরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দীপংকর বর্মন। তিনি আটকের সত্যতা ও অপরাধ বিবেচনা করে অভিযুক্ত তিনজনের প্রত্যেককে এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং সেই সাথে ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করেন। প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
একই অভিযানে পুলিশি তৎপরতায় ধরা পড়েছে মাদক মামলার দীর্ঘদিনের পলাতক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি ইনজামানুল হক পায়েল। ৩২ বছর বয়সী এই যুবক কলেজ মোড় এলাকার আমিনুল হকের ছেলে। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকলেও শেষ রক্ষা হয়নি তার। গ্রেফতারকৃত এই চারজনকেই আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
মাদকমুক্ত বীরগঞ্জ গড়ার এই ধারাবাহিক অভিযানে সরাসরি নেতৃত্ব দিচ্ছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বীরগঞ্জ সার্কেল) শাওন কুমার সরকার এবং বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম। অভিযানে বীরগঞ্জ থানার এসআই জাহাঙ্গীর বাদশা রনিসহ পুলিশের অন্য কর্মকর্তারাও জানপ্রাণ দিয়ে কাজ করছেন। পুলিশ বাহিনীর এমন অনড় অবস্থান দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, বীরগঞ্জে মাদকের শিকড় উপড়ে ফেলা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
অভিযান শেষে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানান, বীরগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছেন। সমাজকে ধ্বংসকারী এই মরণনেশার সাথে যারা জড়িত, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীর পরিচয় যাই হোক, আইনের হাত থেকে বাঁচার কোনো পথ নেই। বীরগঞ্জের সাধারণ মানুষকে মাদকের এই অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে ভবিষ্যতেও এমন কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।