দিনাজপুরের বীরগঞ্জে এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের শীর্ষ দুই নেতা। জেলা বিএনপির উপদেষ্টা এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রেজওয়ানুল ইসলাম রিজুর বিরুদ্ধে সম্মানহানিকর ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়ার পর নিজেদের ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন তারা। ৪ মে সোমবার সন্ধ্যায় বীরগঞ্জ ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বীরগঞ্জ উপজেলা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মজিবর রহমান এবং সাবেক সভাপতি মামুনুর রশিদ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তারা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত কণ্ঠে জানান যে, গত ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আবেগতাড়িত হয়ে বা ভুলবশত তারা রেজওয়ানুল ইসলাম রিজু সম্পর্কে এমন কিছু মন্তব্য করেছিলেন যা তার সামাজিক ও রাজনৈতিক মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছে। উল্লেখ্য, রেজওয়ানুল ইসলাম রিজু জেলা বিএনপির উপদেষ্টার পাশাপাশি চেম্বার অফ কমার্সের পরিচালক, ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি এবং আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া তিনি দীর্ঘ বছর ধরে এই শ্রমিক সংগঠনের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
লিখিত বক্তব্যে শ্রমিক নেতারা স্পষ্টভাবে স্বীকার করেন যে, একজন দীর্ঘদিনের অভিভাবক ও হিতৈষী সম্পর্কে জনসম্মুখে বিরুদ্ধাচরণ করা এবং সম্মানহানিকর অপপ্রচার চালানো তাদের চরম ভুল ছিল। সেই বক্তব্যের কোনো সত্যতা নেই এবং তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ছিল উল্লেখ করে তারা বলেন, আমরা আমাদের সেই অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। তারা আরও বলেন, রেজওয়ানুল ইসলাম রিজু একজন সম্মানিত ব্যক্তি এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে আমরা লজ্জিত। সাংবাদিকদের মাধ্যমে আমরা তার কাছে এবং সাধারণ মানুষের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
এই সংবাদ সম্মেলনে বীরগঞ্জ উপজেলা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কাজল হোসেন, উপদেষ্টা আব্দুল কাদের মন্ডল ও অর্থ সম্পাদক নুরুল ইসলামসহ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক সাধারণ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ জানান, সংগঠনের অভ্যন্তরীণ ঐক্য বজায় রাখতে এবং একজন বিশিষ্ট ব্যক্তির সম্মান রক্ষার্থে এই ভুল স্বীকার ও ক্ষমা প্রার্থনা অত্যন্ত জরুরি ছিল। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে নেতারা আবারও অনুরোধ করেন যেন তাদের আগের ভুল বক্তব্য নিয়ে কেউ বিভ্রান্তি না ছড়ায়। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করেন। দিন শেষে এক আবেগঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলনটি সমাপ্ত হয়, যেখানে ভুল বুঝতে পেরে শ্রমিক নেতাদের মধ্যে অনুশোচনা লক্ষ্য করা গেছে।