উত্তরের জনপদ পঞ্চগড়ের বুক চিরে বয়ে চলা হিমেল হাওয়ার মাঝেই আজ যেন এক নতুন আশার সূর্যোদয় দেখল পঞ্চগড়বাসী। দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের ভোটাধিকার বঞ্চিত মানুষের আকুতি আর অবহেলিত অঞ্চলের বঞ্চনার কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বক্তারা। শুক্রবার দুপুরে পঞ্চগড় সুগারমিল মাঠে ১০ দলীয় জোট আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এক সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার ডাক দেন ড. শফিকুর রহমান।
জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে ড. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, “আমি আজ এখানে প্রথাগত বক্তৃতা দিতে আসিনি, এসেছি দীর্ঘদিনের বঞ্চনার সাক্ষী হতে। এই অঞ্চলকে বছরের পর বছর অবহেলায় ফেলে রাখা হয়েছে। এখানকার মানুষকে নিয়ে কোনো উন্নয়নের পরিকল্পনা অতীতে নেওয়া হয়নি।” তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, আগামীতে ক্ষমতায় গেলে গোটা উত্তরবঙ্গকে দেশের ‘শিল্পের রাজধানী’ হিসেবে রূপান্তর করা হবে এবং পিছিয়ে পড়া জেলাগুলোকে উন্নয়নের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা হবে।
সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের কাছে আপনাদের দেওয়ার মতো কোনো ফ্যামিলি কার্ড নেই। আমরা কার্ডের লোভ দেখিয়ে রাজনীতি করতে আসিনি। দেশের প্রতিটি নাগরিক, প্রতিটি ভাই-বোনই আমাদের শক্তি ও সম্পদ।”
অত্র অঞ্চলের ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, “উন্নত চিকিৎসার অভাবে রংপুর বা দিনাজপুর যাওয়ার পথেই অনেক রোগী মারা যান। এই অকাল মৃত্যু আর সইব না। আমরা ক্ষমতায় আসলে পঞ্চগড়সহ পুরো অঞ্চলে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করব।”
নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম এই জনসভায় তিনি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বলেন, “কিছু দল আছে যারা ‘বসন্তের কোকিল’। ভোটের সময় কুহু কুহু করে ডাকলেও পরে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। আমরা এমন রাজনীতি চাই না। আমরা চাই দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও বৈষম্যমুক্ত এক ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ।”
বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী পঞ্চগড় জেলা শাখার আমির মো. ইকবাল হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় উত্তরবঙ্গের রাজনীতি ও উন্নয়নের নানা দিক তুলে ধরেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, এনসিপির উত্তরবঙ্গ মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।
বক্তব্য শেষে আগামী ৫ বছরের মধ্যে উত্তরবঙ্গের চেহারা বদলে দেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার করেন নেতৃবৃন্দ। সভার শেষ পর্যায়ে পঞ্চগড়-১ আসনের মনোনীত প্রার্থী সারজিস আলমকে ‘শাপলাকলি’ এবং পঞ্চগড়-২ আসনের প্রার্থী সফিউল্লাহ সুফিকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক উপহার দিয়ে স্থানীয় জনগণের সমর্থন প্রত্যাশা করা হয়। জনসভায় জোটের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।