রংপুরের শ্যামপুরে বিষাক্ত মদ্যপানে তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও আতঙ্ক। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী জয়নুলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
নিহতরা হলেন— বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের আলমগীর হোসেন, একই উপজেলার পূর্ব শিবপুর গ্রামের সোহেল মিয়া এবং রংপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর সাহাপাড়া গ্রামের জিন্দার আলী। পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে শ্যামপুর হাট এলাকায় নিয়মিত মাদক কেনাবেচার অংশ হিসেবে কিসামত বসন্তপুর নয়া পাড়া গ্রামের মৃত আনারুলের ছেলে ও একাধিক মামলার আসামি কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী জয়নুলের কাছ থেকে বিষাক্ত মদ ক্রয় করে সেবন করেন কয়েকজন মাদকাসক্ত। মদ্যপানের কিছুক্ষণ পরই আলমগীর, সোহেল ও জিন্দার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাতেই তাদের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের কিশামত বসন্তপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে খাইরুল ইসলাম এবং রংপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর বন্দরের দর্জি আনিচুল ইসলাম আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে রংপুর জেলা সহকারী পুলিশ সুপার সঞ্জয়, বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদ হাসান এবং রংপুর সদর কোতোয়ালি থানার ওসি আঃ গফুর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে জয়নুলকে ১০ বোতল বিষাক্ত মদসহ গ্রেফতার করে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বদরগঞ্জ, রংপুর সদর ও মিঠাপুকুর উপজেলার সীমান্তবর্তী শ্যামপুর এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে ব্যবসা চালালেও কার্যকর প্রতিরোধ না থাকায় একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
গ্রামবাসীরা অবিলম্বে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ ও শ্যামপুর অঞ্চলকে মাদকমুক্ত করার জোর দাবি জানান।