ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনে বইছে উৎসবমুখর নির্বাচনী হাওয়া। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে এই আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পাঁচজন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। সোমবার দিনভর বীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বর ও আশপাশ এলাকায় নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে এক আমেজপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম এবং বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার সুমা খাতুনের কাছে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মো. মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সাবেক ছাত্রনেতা ও সমাজসেবক মতিউর রহমান তার মনোনয়ন দাখিল করেন।
এছাড়া জাতীয় পার্টির বীরগঞ্জ উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিনুর ইসলাম, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের অ্যাডভোকেট চাঁন মিয়া এবং জাকের পার্টির প্রার্থী রঘুনাথ চন্দ্র রায় এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসার সুমা খাতুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে বিএনপি প্রার্থী মো. মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু এবং জামায়াত প্রার্থী মতিউর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, তারা সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। অতীতের সব নেতিবাচক রেকর্ড ভেঙে তারা এই জনপদে নতুন ও ইতিবাচক রাজনীতির ধারা তৈরি করতে চান। জনগণের সমর্থন পেলে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণে আত্মনিয়োগ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, আগামীকাল ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলবে। বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল নিষ্পত্তি করা হবে। ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ২১ জানুয়ারি প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। সবশেষে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বিরতিহীনভাবে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে এই আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।