পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার ৬নং সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের জগন্নাথ হাটে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাস জমি দখল ও অবৈধ ক্রয়-বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভূমি অফিস তিনটি দোকানঘরে তালা লাগালেও পরে সেই তালা ভেঙে প্রবেশের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে বেলাল হোসেনসহ তিনজনকে অভিযুক্ত করে দেবীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সোনাহার ভূমি অফিসের আওতাধীন সরকারি খাস জমিতে নির্মিত তিনটি দোকানঘরে তালা লাগান ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। অভিযোগ রয়েছে, ২৪ ডিসেম্বর রাতে বেলাল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল ওই তালা ভেঙে দোকানগুলোতে প্রবেশ করে।
স্থানীয়দের দাবি, জগন্নাথ হাটের এসব দোকান ও জমি কোনো সরকারি লিজ বা বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই দখল করা হয়েছে। প্রায় ১০ ফুট বাই ১০ ফুট আকারের প্রতিটি জায়গা ৫ থেকে ৭ লাখ টাকায় হাতবদল হচ্ছে।
সোনাহার বাজারে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত মাইনুল ইসলামের দোকান স্থানীয় ব্যবসায়ী স্বপন দাস জোরপূর্বক তা দখল করে পরে বেলাল ইসলামের কাছে বিক্রি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে স্বপন দাস জানান, তিনি মাইনুল ইসলামের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকায় দোকানটি কিনে পরে বেলাল ইসলামের কাছে ৩ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে বেলাল ইসলাম দাবি করেন, তিনি স্বপন দাসের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকায় দোকানের ‘পজিশন’ ক্রয় করেছেন।
সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বলেন, ভূমি অফিসের তত্ত্বাবধানে তিনটি দোকানে তালা লাগানো হয়। পরে হঠাৎ করে ওই দোকানগুলোর তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি ভূমি অফিসের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান আমাকে জানালে আমি তাকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অবহিত করতে বলি।
সোনাহার ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ৯ ডিসেম্বর তালাবদ্ধ করা তিনটি দোকানের পূর্ববর্তী ও বর্তমান দখলদারদের তালিকা অনুযায়ী- মাইনুল ইসলাম (পূর্বে), বেলাল ইসলাম (বর্তমান), রহিদুল ইসলাম (পূর্বে), জুয়েল ইসলাম (বর্তমান), দিপেন (পূর্বে), সবুজ ইসলাম (বর্তমান)।
সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও তালা ভেঙে প্রবেশের অভিযোগে দেবীগঞ্জ থানায় করা জিডি অনুযায়ী অভিযুক্তরা হলেন- মো. বেলাল হোসেন (পিতা: মৃত বিলাত), সোনাহার মুন্সিপাড়া; স্বপন কুমার দাস (পিতা: দিপেন্দ্র দাস), সোনাহার বাজারপাড়া; মো. হাফিজুল ইসলাম (পিতা: মৃত- আব্দুল কাদের জিলানী), সোনাহার পঞ্চায়েতপাড়া। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরী করার আবেদন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডি নম্বর– ১২৩৫, তারিখ– ২৫/১২/২০২৫ ইং।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বেলালের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তিনটি দোকানে তালা লাগানো ছিল। বাকি দোকানদাররা তালা খুলে দোকানে প্রবেশ করলে আমিও আমার দোকানে প্রবেশ করি। তালা ভেঙে দোকানে ঢুকেছেন কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আপনার সঙ্গে পরে যোগাযোগ করব। আপনি যা পারেন, তাই লিখুন।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে সোনাহার ভূমি কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে. এম. মনিরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সাধারণ ডায়েরিটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং পুলিশি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, বিষয়টি নিয়ে থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা কাম্য।