উত্তরবঙ্গের ‘হিমালয়কন্যা’ খ্যাত পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। কনকনে ঠান্ডা আর হিমেল হাওয়ায় যখন জবুথবু জনজীবন, তখনো থমকে নেই শ্রমজীবী মানুষের জীবন সংগ্রাম। প্রকৃতির রুদ্ররূপ উপেক্ষা করেই জীবিকার তাগিদে মাঠে নেমেছেন এ অঞ্চলের অদম্য কৃষক-কৃষাণীরা।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে দেবীগঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদীর বুক চিরে জেগে ওঠা চরাঞ্চলে দেখা যায় এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা মাঠের ভেতর হাড়কাঁপানো শীতকে তুড়ি মেরে অগ্রিম আলু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষিজীবীরা। প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও সোনালি ফসল ঘরে তুলতে তারা এখন নিরন্তর যুদ্ধে লিপ্ত।
করতোয়া চরের কৃষক মো. আশরাফুল আলম রিপনের আলুর ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, তীব্র কুয়াশার মধ্যেই দলবেঁধে কাজ করছেন দিনমজুররা। কৃষক আশরাফুল আলম বলেন, “শীতের মৌসুমে এই অঞ্চলের গরিব মানুষের লড়াইটা অনেক বেশি কঠিন। হাত-পা জমে আসে ঠান্ডায়, তবুও পেটের তাগিদে আর ফসল রক্ষার প্রয়োজনে আমাদের থেমে থাকার কোনো সুযোগ নেই।”
এদিকে, ঘন কুয়াশার প্রভাবে গোটা পঞ্চগড় জেলা বর্তমানে অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। দৃশ্যমানতা বা ভিজিবিলিটি কমে আসায় সড়কে যানবাহন চলাচল করছে ধীরগতিতে, দিনদুপুরেও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে দেখা গেছে অনেক পরিবহনকে। কুয়াশার কারণে কৃষিকাজে বিঘ্ন ঘটায় দৈনন্দিন আয়ে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় শ্রমিকরা। বিশেষ করে হিমালয়ের পাদদেশঘেঁষা এই জনপদে শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষের দৈনন্দিন দুর্ভোগকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।