পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নে ১৪ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ৬০ বছর বয়সী মোঃ জহিরুল মুন্সি (ওরফে জহুরাল) কে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ গ্রেফতার করার পর তাকে পঞ্চগড় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
দেবীগঞ্জ থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর চন্দ্র সরকারের নেতৃত্বে, এসআই ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. ইমরান খানসহ দেবীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল ১৪ ডিসেম্বর মধ্যরাতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে দেবীগঞ্জ উপজেলার ১০ নং চেংঠী হাজরাডাঙ্গা ইউনিয়নের বাজার এলাকা থেকে ধর্ষণ মামলার আসামি জহুরালকে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) জুম্মার নামাজের পর, সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের সিদ্দিকপাড়া এলাকায়। অভিযোগ অনুযায়ী, জহুরাল, যিনি জামায়াত সমর্থক হিসেবে পরিচিত, প্রতিবন্ধী শিশুটিকে বিস্কুট ও নগদ অর্থের প্রলোভনে তার চায়ের দোকানে নিয়ে যান। পরে, সেই শিশুটি সেখানে ধর্ষণের শিকার হয় বলে জানা গেছে।
একই ওয়ার্ডের সোনাহার নুরুর বাজার সংলগ্ন
কুমারগাড়ী এলাকার বাসিন্দা ভুক্তভোগী ধর্ষিত শিশু মোঃ আব্দুল রাব-এর কন্যা। কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, তাকে কৌশলে জহুরাল ডেকে নিয়ে বিস্কুট ও নগদ অর্থের প্রলোভনে তার দোকানে নেওয়া হয়, পরে দোকান বন্ধ করে দোকানের পাশের বাড়িতে নিয়ে জহুরালের ঘরের বিছানায় মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে বলে শিশু জানায়। ঘটনার পরে ভুক্তভোগী শিশুর মা মোছাঃ হাচিনা বেগম থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, দেবীগঞ্জ থানার মামলা নং–৩, তারিখ: ১২/১২/২০২৫ খ্রি.। উক্ত মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ধারা ৯(১) অনুযায়ী দায়ের করা হয়।
স্থানীয় নারী প্রত্যক্ষদর্শী মোঃ কুকিলের স্ত্রী মোছাঃ মিনারা বেগম, মোঃ সাত্তার আলীর স্ত্রী মোছাঃ রুকছানা বেগম এবং মোঃ আব্দুর রব-এর কন্যা মোছাঃ রাফিয়া বেগমসহ স্থানীয় নারী ও পুরুষরা বিষয়টি জানান। ঘটনাটি জুম্মা নামাজের পর ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী জানা যায়, মুদি দোকানদার জহুরাল শিশুটি দোকানে এলে দোকান বন্ধ করে তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায় এবং সেখানেই ঘটনাটি ঘটায়।পরবর্তীতে কয়েকজন স্থানীয় নারী জহুরালের চাচাতো ভাই আব্দুল কাদের জিলানিকে সঙ্গে নিয়ে জহুরালের বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি করেন। প্রায় ১৫–২০ মিনিট পর জহুরাল সাড়া দেয়। পরে তারা বাড়িতে প্রবেশ করে শিশুটিকে বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখেন। শিশুটিকে ধমক দিলে সে ঘটনার বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে সবকিছু জানায়। এরপর শিশুটি বাড়িতে চলে যায়। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, একজন জামায়াতের সমর্থক এ ধরনের নেক্কারজনক কাজ কীভাবে করতে পারে-আমরা তার বিচার চাই। তবে ঘটনার পরদিন থেকেই জহিরুল বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে বলে স্থানীয়রা জানান।
এ ঘটনায় শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের নুরুর বাজার এলাকায় স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজের মানুষ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এই মানববন্ধনে অংশ নেন। তারা নৃশংস এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ফাঁসির দাবি জানান।
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে. এম. মনিরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ইতিমধ্যে পুলিশের অভিযানে আসামি গ্রেফতার হয় এবং আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়।
সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের
জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন সচিব আব্দুস সুবাহান জানান, অভিযুক্ত জহুরান জামায়াতে ইসলামী দলের একজন সমর্থক এবং তিনি গত তিন বছর ধরে জামায়াতের হয়ে কাজ করছেন।