পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার ৬নং সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের জগন্নাথ হাটে দীর্ঘদিন ধরে দখলে থাকা হাটের চান্দিনা জায়গা ক্রয়–বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোনাহার জগন্নাথ হাটে যে সব জায়গা কেনা–বেচা হচ্ছে সেগুলোর কোনো সরকারি লিজ বা বন্দোবস্ত নেই। শুধুমাত্র দখল বা পজিশন হিসেবে এসব স্থান হাতবদল হচ্ছে। প্রায় ১০ ফুট বাই ১০ ফুট স্থান ৫ থেকে ৭ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলেও জানা যায়।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি হাটে আরও চারটি দোকানের পজিশন কেনা–বেচা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্যারালাইসিস রোগী মাইনুলের দখলকৃত তালাবদ্ধ একটি দোকান স্বপন দাস বাজারের ব্যবসায়ী জোরপূর্বক দখল করে পরে বেলাল নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন। এ ঘটনায় মাইনুলের পরিবার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে মৌখিক অভিযোগ করলেও তিনি বিষয়টি দেখভালের এখতিয়ার নিজের নেই বলে জানান।
এ বিষয়ে স্বপন দাস জানান যে তিনি মইনুলের কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা মূল্যে ডিডের মাধ্যমে স্থানটি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে তিনি সেটি বেলালের কাছে ৩ লক্ষ টাকায় বিক্রি করেন। বেলাল জানান, তিনি স্বপন রায়ের কাছ থেকে ৩ লক্ষ টাকায় দোকানের পজিশন ক্রয় করে দখলে নেন।
ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বলেন, এসব জায়গার কোনো সঠিক সরকারি খতিয়ান বা কাগজপত্র নেই। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি খাসজমি হাতবদলের মাধ্যমে কেনাবেচা করা হচ্ছে, কিন্তু এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। তিনি মনে করেন, এসব বিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সরকারের দখলকৃত জমি দখলদাররা ছেড়ে দিলে তা সরকারের মাধ্যমেই যথাযথ ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা উচিত।
এদিকে একই দিন (৯ ডিসেম্বর) বিকেলে সোনাহার ভূমি অফিসের আওতায় থাকা তিনটি দোকানে তালা দেন ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।
সোনাহার জগন্নাথ হাটে দোকানগুলোর পূর্ববর্তী ও বর্তমান দখলকারীর তালিকা-পূর্বে: ময়নুল ইসলাম বর্তমানে: বেলাল ইসলাম পূর্বে: রহিদুল বর্তমানে: জুয়েল ইসলাম পূর্বে: দিপেন বর্তমানে: সবুজ ইসলাম।
সোনাহার জগন্নাথ হাটের ইজারাদার সাদিকুল ইসলাম বলেন, দোকানঘরটি মইনুলের বলে আমি জানি, তবে কিভাবে বা কারা এটি দখল করেছে, তা আমি বলতে পারব না।
সোনাহার ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, সোনার বাজারে জায়গা দখল বা বিক্রির বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেননি। তবে আপনারা বিষয়টি জানিয়েছেন, আমরা তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসান বলেন, বন্দোবস্তের কাগজপত্র ছাড়া বাজারের জায়গা কেনাবেচার অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।