লালমনিরহাট সদর উপজেলার সিংগাদার গ্রামে গত ৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে “পাট ও কেনাফ আঁশ উৎপাদন শীর্ষক মাঠ দিবস ২০২৫” অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাট গবেষণা আঞ্চলিক কেন্দ্র, রংপুরের আয়োজন এবং কৃষি গবেষকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ মাঠ দিবসের উদ্দেশ্য ছিল সম্প্রতি অবমুক্ত পাট, কেনাফ, পাট শাক ও সবজির মেস্তা বীজ উৎপাদনের কলাকৌশল জনপ্রিয়করণ ও সম্প্রসারণ।
বিকেল ৩টায় পাট গবেষণা আঞ্চলিক কেন্দ্র, রংপুরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইনচার্জ কৃষিবিদ ড. মো: রিশাদ আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া এ মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজেআরআই-এর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. মো: গোলাম মোস্তফা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. মো: নাসির উদ্দিন, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. মোহাম্মদ শাহাদত হোসেন এবং প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. আবু সালেহ মো: ইয়াহিয়া।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিবিদ ড. মো: গোলাম মোস্তফা বলেন, “উদ্ভাবিত নতুন জাতের কেনাফ ও পাট চাষ দেশের কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। বেশি ফলন ও উন্নত আঁশ উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকেরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি দেশের অর্থনীতিও সমৃদ্ধ হবে।” তিনি নতুন জাতের সুবিধা ও সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে ড. মো: রিশাদ আবদুল্লাহ জানান, “বিজেআরআই উদ্ভাবিত তোষা পাট-৯ (সবুজ সোনা) এবং কেনাফের নতুন জাত এইচসি-৯৫ অত্যন্ত উন্নত মানের। স্বল্প খরচে চাষযোগ্য হওয়ায় এসব জাত কৃষকের আর্থিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।” তিনি আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও উন্নত বীজ ব্যবহারের উপকারিতা উপস্থিত কৃষকদের কাছে তুলে ধরেন।
মাঠ দিবসে স্থানীয় কৃষকসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। নতুন জাতের পাট ও কেনাফের পরিচিতি এবং উৎপাদন কলাকৌশল সরাসরি মাঠ পর্যায়ে প্রদর্শনের মাধ্যমে কৃষকেরা উপকৃত হবেন— এমন আশা প্রকাশ করেন আয়োজকরা।