উত্তরাঞ্চলের কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন কৃষিবিদ মোঃ আবু তালেব মিঞা। তিনি বর্তমানে নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলা ভিত্তি বীজআলু উৎপাদন খামারে উপ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিতে দক্ষতা এবং কৃষকদের প্রতি নিবেদিত সেবার মাধ্যমে তিনি এ অঞ্চলের কৃষিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন।
আধুনিক চাষাবাদ, উন্নতমানের বীজ উৎপাদন, প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি এবং মাঠ পর্যায়ে সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদানের ফলে উত্তরাঞ্চলে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষির সার্বিক উন্নয়নে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য।
এছাড়া বেকার যুবসমাজ ও অসহায় মানুষের জন্য আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন কার্যক্রমেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ এলাকাবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে।
কৃষি উন্নয়ন ও মানবিক কর্মকাণ্ড—উভয় ক্ষেত্রেই মোঃ আবু তালেব মিঞা উত্তরাঞ্চলে এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।
চলতি মৌসুমে ডোমার উপজেলা ভিত্তি বীজআলু উৎপাদন খামার বিএডিসি তার ৭টি টিস্যুকালচার ল্যাবরেটরির মাধ্যমে ১৮টি জাতের প্রায় ২৫ লাখ প্লান্টলেট উৎপাদন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। উৎপাদিত জাতগুলো হলো: বিএডিসি আলু–১ (সানসাইন), বিএডিসি আলু–৩ (সানতানা), বিএডিসি আলু–৬ (কুমবিকা), বিএডিসি আলু–৭ (কুইন অ্যানি), বিএডিসি আলু–৮ (লেবেলা), ৭ কিশোরগঞ্জ, বারিআলু–৭ (ডায়মন্ট), বারিআলু–৮ (কার্ডিনাল), বারিআলু–১৩ (গ্রানোলা), বারিআলু–২৫ (এস্টারিক্স), বারিআলু–২৯ (কারেজ), বারিআলু–২৮ (লেডি রোসেটা), বারিআলু–৫৪ (মিউজিকা), বারিআলু–৮৫ (৭ ফোর ৭), বারিআলু–৯০ (এলোয়েট), সাগিত, বারিআলু–৬২ এবং বারিআলু–৮৬।
লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্লান্টলেট উৎপাদন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে এবং বর্তমানে উৎপাদিত প্লান্টলেট হার্ডেনিং শেষে মাঠে রোপণের কাজ চলমান রয়েছে। এসব প্লান্টলেট থেকে প্রথম বছরে নেটহাউসে মিনিটিউবার বীজআলু উৎপাদন করা হবে। পরের বছরে ওই মিনিটিউবার থেকে প্রাকভিত্তি বীজআলু এবং তদুপরি বিএডিসির বিভিন্ন খামারের মাধ্যমে ভিত্তি বীজআলু উৎপাদন করা হবে।
পরবর্তী বছরে এই ভিত্তি বীজআলু ব্যবহার করে বিএডিসির ৩২টি চুক্তিবদ্ধ চাষি জোনের মাধ্যমে বিএডিসির তত্ত্বাবধানে প্রত্যায়িত বীজআলু উৎপাদন করা হবে। পরে এই প্রত্যায়িত বীজ বিএডিসির বীজ বিপণন বিভাগের আওতায় নিবন্ধিত ডিলারের মাধ্যমে দেশের সাধারণ চাষিদের নিকট সরবরাহ করা হবে।
চলতি মৌসুমে আলু রোপণে তিনি এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন, যা ভবিষ্যৎ কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। ট্রাক্টরে সংযুক্ত পটেটো প্লান্টার ব্যবহার করে আলু রোপণের এই নতুন উদ্যোগে মাত্র দেড় ঘণ্টায় এক একর জমিতে রোপণ সম্ভব হচ্ছে। সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দিনে ১০ থেকে ১১ একর জমিতে আলু রোপণ করা যায়।
এ অঞ্চলের খামারগুলোতে শ্রমিক সংকট থাকে। অনেক শ্রমিকের নিজস্ব জমিতে কাজ করার কারণে খামারে প্রয়োজনীয় শ্রমিক পাওয়া যায় না। কিন্তু ট্রাক্টরের পটেটো প্লান্টার ব্যবহারের ফলে এই শ্রমিক সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছে। সময়মতো আলু রোপণের সুবিধা তৈরি হওয়ায় উৎপাদনও সহজ হচ্ছে।
অল্প সময়ের মধ্যেই শীত চলে যায়। তার ওপর এ বছর অক্টোবরের ৩০ তারিখ এবং নভেম্বরের ১–২ তারিখে ভারী বৃষ্টির কারণে মৌসুমি আলু চাষে দেরি হয়ে গেছে। এই খামারের মোট ৪০০ একর জমির মধ্যে ২০০ একরেই প্লান্টার দিয়ে আলু রোপণ করা হচ্ছে।
প্লান্টারে সুশৃঙ্খলভাবে ৩০ ইঞ্চি দূরত্বে লাইন তৈরি করা যায়। পাশাপাশি প্লান্ট-টু-প্লান্ট এবং হিল-টু-হিল দূরত্ব ৫, ৬, ৭ কিংবা ৯ ইঞ্চি পর্যন্ত প্রয়োজন অনুযায়ী মেশিনে সমন্বয় করা সম্ভব।
কৃষিবিদ মোঃ আবু তালেব মিঞা উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই মেশিন ব্যবহার করে আলু রোপণ করলে সময় সাশ্রয় হবে এবং খামারিরা আলু চাষে আরও বেশি লাভবান হবেন।