পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার ৮নং দন্ডপাল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোঃ মাসুদ রানা সম্প্রতি নিজের জীবনের সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন ফেসবুকে।
মাসুদ রানা লিখেছেন,👉 একটি সত্য প্রকাশ করছি এই তো সেই দিন — ১৯৯৩ সাল, প্রথম ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হয়েছিলাম। দেখতে দেখতে পাঁচ বছর কেটে গেল, ১৯৯৮ সালে পড়ছিলাম কালীগঞ্জ হাই স্কুলে। আরও কিছু সময় পরে, ২০০৩ সালে আমি এস.এস.সি পরীক্ষা দিলাম।
তারপর শুরু হলো ২০০৫ সাল। ঠিক তারিখটা মনে নেই, কিন্তু এক অন্ধকার রাত নেমে এসেছিল। সেই রাতের সাক্ষী ছিলেন কালীগঞ্জের তিনজন বড় ভাই। যদি আমার ভাগ্য ভালো হয়, আর তারা আমার এই লেখাটি পড়ে থাকেন, তাহলে আল্লাহর কাছে লাখ কোটি শুকরিয়া আদায় করবো। আমি জানি, তাদের মধ্যে দুইজন এখন আর এই পৃথিবীতে নেই। আল্লাহ যেন তাদের জান্নাত দান করেন- তাদের কারণেই হয়তো আজ আমি গ্রামের “মাছুদ রানা” থেকে “মাসুদ মেম্বার” হতে পেরেছি, আলহামদুলিল্লাহ।
সব বাদ দিলাম। ২০০৫ থেকে ২০১১ সালের পূর্বের কিছু কথা মনে করলে বুঝি, আমি অনেক ভুল করেছি- অন্যায় করেছি, খারাপ কাজও করেছি। আমি নিজেই তার সাক্ষী। কিন্তু এটা-ই সত্য- আমি আমার সব দোষ বুঝে নিয়েছি, মেনে নিয়েছি।
২০১১ সালের জুন মাসে আমি দন্ডপাল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নির্বাচিত হই।
তারপর আসে ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির সেই দিন – মনে রাখার মতো এক দিন। পরদিন, ৬ই জানুয়ারি, মৌমারীতে আনন্দের আওয়াজ উঠেছিল অনেকের মুখে, কিন্তু আমার জন্য তা দুঃখের সংবাদ বয়ে এনেছিল। হঠাৎ আমি যেন জীবিত হয়েও “মৃত” হয়ে গেলাম, এক লক্ষ টাকার টিকিটের মানুষ হয়ে গেলাম।
সব ভুলে বিদেশে গিয়েছিলাম, কিন্তু থাকা হলো না। মনে হলো, আমি হেরে যাচ্ছি — আবার নিজেকে গুছিয়ে নিলাম। গার্মেন্টসে চাকরি শুরু করলাম, তখন সবাই আমাকে চিনতো “মাসুদ সুপারভাইজার” নামে। অবাক লাগবে শুনে, কিন্তু এটা সত্যি।
তারপরেও আমার আগের কিছু মামলা ছিল — হয়তো ৩০/৪০টা মতো। ২০১৮ সালে এক ঈদের সময় দেশে ফিরে আসি। হঠাৎ পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে গেল। পরে জানা গেল, আগের মামলাগুলোর সবগুলোতেই আমি খালাস পেয়েছি, কিন্তু পুরনো কিছু ওয়ারেন্ট ছিল বলে আমাকে ধরা হয়েছিল।
সত্যি বলতে গেলে, পুলিশের ভাইদের নিয়েও কিছু বলা দরকার — কিন্তু বাদ দেই। আমাকে তখন একটি মাদক মামলায় চালান করা হয়। মনে আছে, যখন আমাকে থানায় নেয়া হয়েছিল, তখন এক চেয়ারম্যান সেখানে বসা ছিলেন।
সব দোষ আমি নিজের ঘাড়ে নিয়েছি। এরপর আমি কাদেরের মোড়ে একটি ছোট দোকান দিয়ে জীবনের নতুন শুরু করি।
কিন্তু জনগণ আমাকে ভুলেনি। ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারিতে আমাকে আবারও ভালোবেসে হাকিমপুরের ইউপি সদস্য নির্বাচিত করেছে।
এখন আমার সবার কাছে প্রশ্ন — আমি কি তবে আগের নির্বাচনের পরেই থেমে যেতাম? নাকি এটাই ছিল আমার জন্য ভালো পথ?
আমি সরকারের মানুষ, জনগণের সেবক — এটাই আমার গর্ব। সবাই আমাকে ক্ষমার চোখে দেখবেন।
আমার মার্কা একটাই — “মোরগ মার্কা” 🐓
আমি সবার, সবাই আমার।
যদি আমার কথায় কারও কোনো প্রশ্ন থাকে বা কিছু জানতে চান, মন্তব্যে জানাতে পারেন। আর যদি কারও কাছে আমার কোনো দোষ জানা থাকে, প্রশ্ন করতে পারেন — আমি উত্তর দেবো, ইনশাআল্লাহ।
— মোঃ মাসুদ রানা
ইউপি সদস্য, ১নং ওয়ার্ড, দন্ডপাল ইউনিয়ন, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।