পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বামনবাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা মাদকের রমরমা বাণিজ্যের প্রতিবাদে ও এর প্রতিকারের দাবিতে অতিষ্ঠ গ্রামবাসীর উদ্যোগে এক বিশাল মাদক বিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে উপজেলার কাজলদিঘী কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়নের বামনবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বামনবাড়ি টাইগার ক্লাব ও এলাকাবাসীর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখেন বোদা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সুরজ্জামালের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন, কাজলদিঘী কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মমিন, সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফজলার রহমান, বামনবাড়ি জামে মসজিদের ঈমাম মঞ্জরুল ইসলাম এবং টাইগার ক্লাবের সভাপতি জয়েল সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বামনবাড়ি এলাকার আনোয়ার, রুহি, কালু, জামাল ও তার সহকারী বাবু, সোনিয়া, রুবেল সহ তাদের একটি দল দীর্ঘ এক যুগ ধরে এলাকায় মাদকের ব্যবসা চালিয়ে আসছে। তাদের আশ্রয়দাতা হিসেবে এলাকায় পরিচিত ইউনুস, ফুলুরউদ্দিন, মুসলিম। তারা সবাই মিলে এলাকায় মাদকের এই রমরমা বাণিজ্য করছে। স্থানীয়রা একাধিকবার তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালেও কোনো ফল হয়নি।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মাদক সহ আটক হলেও দুই একদিনের ব্যবধানে তারা আবার কীভাবে যেন বের হয়ে আসে। তারা মনে করেন, পুলিশ সঠিকভাবে মামলার চার্জশিট দিচ্ছে না এবং মাদকের পরিমাণ বেশি ধরা হলেও তা কম দেখানো হয়। এই এলাকার মাদকসেবীরা ধামের ঘাট সীমান্ত দিয়ে মাদক এনে এলাকায় ব্যবসা করছে। এমনকি নানা সময়ে মাদক সহ গ্রেপ্তার হওয়ার পরেও তারা স্থানীয়দের দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। বিগত দিনে তারা আওয়ামী লীগের শেল্টারে মাদক ব্যবসা করলেও, এখনো নানা উপায়ে বিভিন্নজনের ছত্রছায়ায় এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। মাদকের এই রমরমা বাণিজ্যের কারণে এই গ্রামে কেউ মেয়ে বিয়ে দিতে চায় না এবং পুরো গ্রামটিই মাদকের গ্রাম নামে পরিচিতি পেয়েছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে এই এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
সমাবেশে বোদা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, মাদক নির্মূলের জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি জানান, পুলিশ আসামি ধরলেও অনেক সময় সাক্ষীর অভাবে তারা জামিন পেয়ে যায়। এজন্য স্থানীয়দের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি পরামর্শ দেন, গ্রাম পর্যায়ে মাদক নির্মূলে কমিটি গঠন করতে হবে এবং মাদক সেবীদের ধরে প্রশাসনের কাছে তুলে দিতে হবে। তিনি আশ্বাস দেন, সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে যা কিছু করার দরকার, প্রশাসন তাই করবে।
পরে সমাবেশ শেষে আয়োজনকারী স্থানীয়রা জেলা প্রশাসক বরাবরে বোদা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলামের মাধ্যমে স্মারকলিপি তুলে দেন।