পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ পৌরসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এক নির্বাচনী ভোটকর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। “সত্যের সোনালীরা নেবে নাকো বিশ্রাম, আমাদের সংগ্রাম চলবেই অবিরাম”—এই স্লোগানে মুখরিত ছিল সমাবেশস্থল।
সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয় দেবীগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের করতোয়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায়, ১৯ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে। এতে সভাপতিত্ব করেন পৌর জামায়াতের আমির শেখ ফরিদ।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক বোদা উপজেলা চেয়ারম্যান এবং পঞ্চগড়-২ আসনে জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. শফিউল্লাহ সুফি। তিনি বলেন, “আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব—এই অধিকার আমাদের আছে। তবে আল্লাহ্ বলেছেন, আমানতের হকদারকে আমানত প্রদান করতে। ভোট একটি আমানত, কাজেই বুঝে-শুনে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়া উচিত। তবে এবার জনগণ জামায়াতে ইসলামীর প্রতীক দাড়িপাল্লা মার্কাকেই দেখবে।”
তিনি আরও বলেন, “জামায়াতে ইসলামী যে আদর্শ ও নৈতিকতার ভিত্তিতে কাজ করে, তা দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলের চেয়ে ভিন্ন ও ব্যতিক্রম। জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় আমাদের নেতাকর্মীদের মাঠপর্যায়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও আদর্শকে সামনে রেখে আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি মো. আবুল বাশার বসুনিয়া, দেবীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. বেলাল হোসেন এবং ৯ নম্বর দেবীডুবা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ।
আবুল বাশার বসুনিয়া বলেন, “আমরা শুধু এখন নয়, দীর্ঘদিন ধরেই জনগণের খেদমতে নিয়োজিত। আমাদের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান সেবার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে কাজ করছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের যে পরিকল্পনা করছে, সেখানে জামায়াতে ইসলামী অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত। আমরা বিশ্বাস করি, দেশের নিপীড়িত ও বঞ্চিত জনগণ যদি ‘দাঁড়িপালা’ প্রতীকে ভোট দেন, তাহলে দলটি অতীতের যেকোনো সরকারের তুলনায় আরও দক্ষভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারবে।”
তিনি আরও বলেন, “ইসলামী ব্যাংক যেমন দেশের অন্যতম সফল আর্থিক প্রতিষ্ঠান, তেমনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রগুলোর কাতারে পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে।”
সমাবেশে পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আগত নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচার, ভোটার সংযোগ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে কর্মীদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।