• সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ডোমারে প্রশিকার ৯০ দিনব্যাপী সেলাই প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করলেন ওসি হাবিবুল্লাহ বীরগঞ্জে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহ অভিযানের শুভ উদ্বোধন বীরগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে ১৬ ইঞ্চির প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার, পাচারকারী চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার টাকা তো দেবেই না, ধন্যবাদও দেবে না? সাবেক মন্ত্রী সামাদ আজাদ মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে বীরগঞ্জে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, জালে ৩ ব্যবসায়ী পেশাদার মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে ডোমারে ঔষধ কোম্পানি প্রতিনিধিদের মানববন্ধন বই যার বন্ধু, সে কখনো একা নয় খেলার মাঠ উন্মুক্তের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন, ডিসিকে স্মারকলিপি লালমনিরহাটের গণধর্ষণ মামলার আসামি রংপুরে গ্রেফতার দেবীগঞ্জে লাভজনক ফসলের খোঁজে চিয়া সিড চাষ শুরু করলেন কৃষক খোরশেদ আলম

শ্বশুরবাড়িতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, এলাকাবাসীর দাবি—স্বাভাবিক নয়

লালন সরকার, পঞ্চগড় (দেবীগঞ্জ)
বুধবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৫

বোদা উপজেলা মারেয়া বামনহাট ইউনিয়নের সরদারপাড়া এলাকায় এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিহত গৃহবধূর নাম মনিয়ারা খাতুন। তিনি দুই কন্যা সন্তানের জননী এবং ৬ নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক জুলফিকারের স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল (১৪ অক্টোবর) রাতে ঘটনাটি ঘটলেও আজ (১৫ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি জানাজানি হয়। মনিয়ারার মরদেহ তার শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গৃহবধূর গলায় দাগ, কানের নিচে কালচে চিহ্ন এবং পিঠে ও হাত-পায়ে মারধরের চিহ্নসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের দাগ দেখা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় গৃহবধূর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে বিষয়টি গোপন রেখে ডায়াবেটিসের সমস্যা বলে পল্লী চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসার চেষ্টা করা হয়। চিকিৎসক হাবিবুর রহমান ডায়াবেটিস পরীক্ষা করে দেখেন, তার রক্তে শর্করা মাত্রাতিরিক্ত নিচে নেমে এসেছে। এরপর তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

চিকিৎসকের পরামর্শে মনিয়ারা খাতুনকে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আনুমানিক পৌনে দুইটায় তার মৃত্যু হয়।

এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল থেকে মনিয়ারার লাশ বাড়িতে আনার পর ভোররাতে জুলফিকার তার শ্বশুর-শাশুড়িকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের বোঝানো হয় যে, “আপনার মেয়ে গলায় ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে সমস্যা হতে পারে, তাই দ্রুত দাফন করে দেওয়া উচিত।”

কিন্তু গৃহবধূ মনিয়ারাকে গোসল করানোর সময় এলাকাবাসীর নজরে আসে যে, মৃতদেহে বিভিন্ন স্থানে মারধরের চিহ্ন রয়েছে। এরপর ঘটনাটি রহস্যজনক মনে হওয়ায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে বোদা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মশিয়ার রহমান বলেন, “ঘটনাস্থলে এসে দেখি মৃত নারীর শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গলায় দাগ, কানে, পিঠে ও পায়ে আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন দেখা গেছে। এটা কোনোভাবেই স্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারে না।”

বোদা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তদন্ত বলেন, “ঘটনাটি আমরা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”

এদিকে ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


More News Of This Category