আই জামান চমক: বাংলাদেশের রাজনীতিতে কিছু নাম আদর্শ আর সততার প্রতিশব্দ হয়ে আছে। এমন একটি চরিত্র হলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তার শাসন নিয়ে নানা মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু তার চরিত্রের এক জায়গায় সবাই একমত—তিনি ছিলেন নির্লোভ। তার বিরুদ্ধে কোনো গোয়েন্দা সংস্থা আজও দুর্নীতির প্রমাণ পায়নি। একমাত্র নির্লোভ শাসক হিসেবে তিনি এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে।
দেশের সর্বোচ্চ পদে থেকেও তিনি ছিলেন একজন সাধারণ মানুষ। জিয়াউর রহমানের এই নির্লোভী চরিত্র তার ব্যক্তিগত জীবনেও প্রতিফলিত হয়েছিল। সন্তানদের পুরোনো জামাকাপড় ছোট করে পরানোর মতো উদাহরণ তিনি সৃষ্টি করেছিলেন। তিনি ছিলেন একপ্রকার কপর্দকহীন রাষ্ট্রপতি। ক্ষমতার আসনে বসেও তিনি শোষক ছিলেন না, ছিলেন শুধুই শাসক। যদিও পরবর্তীতে তার দল ক্ষমতায় এসে দুর্নীতিতে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে তার আদর্শকে কলঙ্কিত করেছে, তবুও তার ব্যক্তিগত সততা প্রশ্নাতীতই থেকে গেছে।
জিয়াউর রহমানের এই আদর্শের প্রতিচ্ছবি তার পুত্র তারেক রহমানের মধ্যেও দেখা যায়। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তিনি আজ নির্বাসনে। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের তীর ছোঁড়া হলেও, কোনো আদালত বা তদন্ত সংস্থা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। তারেক রহমানের সরকারিভাবে কোনো বাড়ি, ব্যাংক ব্যালেন্স বা অন্য কোনো সম্পদ নেই। তিনি যদি পিতার আদর্শ থেকে সামান্য বিচ্যুত হতেন, তাহলে বিদেশে বসেই এদেশে-ওদেশে সম্পদের পাহাড় গড়তে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি।
নেতা-কর্মীদের কাছে যখন এই আদর্শ অনুসরণীয় হওয়ার কথা, তখন সম্প্রতি বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর লাগামহীন চাঁদাবাজি ও খুন-খারাবির ঘটনা দলের ভাবমূর্তি এবং শহীদ জিয়ার আদর্শকে ভূলুণ্ঠিত করছে। বয়োঃজ্যেষ্ঠ এক নেত্রী বারবার সাবধান করলেও, তার আদেশ-নির্দেশ খুব একটা তোয়াক্কা করছেন না দলের তরুণ নেতাকর্মীরা। বিদেশে নির্বাসিত নেতা তারেক রহমান নিজেও পিতার আদর্শকে লালন করেন এবং একাধিকবার চাঁদাবাজ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ামাত্র তিনি সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছেন এবং অনেককে বহিষ্কারও করেছেন। কিন্ত জনগণের প্রত্যাশা শুধু বহিষ্কারে সীমাবদ্ধ নয়, তারা দৃঢ় পদক্ষেপ দেখতে চায়।
গতকালও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তার নেতাকর্মীদের প্রতি লোভ-লালসাহীন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। যদি তার এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে দলের লোকেরা জনগণের কল্যাণে কাজ করে, তবে শহীদ জিয়ার এই দলটি ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ জায়গায় স্থান করে নিতে পারবে।
সব সমালোচনা ছাপিয়ে জিয়াউর রহমান ও তারেক রহমানের নিঃস্পৃহ চরিত্র রাজনৈতিক আদর্শের এক শক্তিশালী দৃষ্টান্ত। এই আদর্শিক উত্তরাধিকারকে যদি দলটির তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যন্ত সবাই ধারণ করতে পারে, তবেই তাদের রাজনৈতিক পথচলা অর্থবহ হবে।
লেখক: কবি, সাংবাদিক, আবৃত্তিকার ও বাচিক শিল্পী