একজন সাংবাদিকের পক্ষে মানববন্ধনে অংশ নেওয়ায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১৫ টাকা কেজি দরে চাল পাওয়ার কার্ড কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ইউপি সদস্য নুরুজ্জামান সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী সহ সরকারি ঘর দখল, এবং অবৈধভাবে অর্থ নেওয়ার মতো আরও কয়েকটি গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।
গত ৮ এপ্রিল দৈনিক ‘আজকের বসুন্ধরা’ পত্রিকার দেবীগঞ্জ প্রতিনিধি লালন সরকারের বিরুদ্ধে পঞ্চগড় আদালতে দুটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলার বাদী ইউপি সদস্য নুরুজ্জামান নিজেই। তার অভিযোগ, আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর বিক্রির বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিক লালন তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন।
এই মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে গত ১৫ এপ্রিল দেবীগঞ্জের বিজয় চত্বরে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় গরিব নারী-পুরুষসহ প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ এতে অংশ নেন এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই মানববন্ধনে অংশ নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ইউপি সদস্য নুরুজ্জামান খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় থাকা ১৭ জন দরিদ্র মানুষের কার্ড বাতিল করে দিয়েছেন। এই তালিকায় থাকা মোর্শেদা বেগম নামে এক নারী বলেন, “আমি গরিব মানুষ। সাংবাদিকের পক্ষে কথা বলায় মেম্বার আমার কার্ড কেটে দিয়েছেন।” আরেক ভুক্তভোগী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, তিনি ইউপি সদস্যের দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় তার কার্ড বাতিল করা হয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে ইউপি সদস্য নুরুজ্জামান বলেন, “আমার ওয়ার্ডে তুলনামূলকভাবে ভোটার কম, কিন্তু কার্ডধারী বেশি। অন্য ওয়ার্ডের সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য কিছু কার্ড বাতিল করা হয়েছে।” তিনি আরও দাবি করেন, সাংবাদিকের মানববন্ধনে অংশ নেওয়ায় কার্ড বাতিল করা হয়েছে এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
এদিকে, দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ ইলিয়াজ হোসেন জানিয়েছেন, “আগের বরাদ্দ শেষ হওয়ার পর নতুন করে অসচ্ছল ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।” তিনি আশ্বাস দেন যে এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মাহমুদুল হাসান জানান, এই মাসের চাল বিতরণ শেষ হয়েছে এবং পরবর্তী মাসের জন্য কার্ডধারীদের তালিকা যাচাই-বাছাই করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউপি সদস্য নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে আরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর ও জমি দখল, প্রকল্পের রাস্তায় অবৈধ পাকা দালান নির্মাণ, সরকারি ঘরের টিন বিক্রি এবং ভিজিডি কার্ড দেওয়ার নামে অসহায় মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া। এলাকাবাসীর দাবি, তিনি প্রায়ই ভিন্ন ব্যক্তিকে বাদী করে মিথ্যা মামলা করেন এবং তার অপকর্ম প্রকাশ পেলে হুমকি-ধামকি দেন। এই ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।