শেখ ফরিদ, দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়): পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় পাথরাজ নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে নদীপাড়ের মানুষের বাড়ি-ঘর, আবাদী জমি, রাস্তাঘাট এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এতে করে চরম দুর্ভোগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আসন্ন নির্বাচনে ভোট বর্জনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেবীগঞ্জ উপজেলার ৫নং সুন্দরদিঘী ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের বগুড়াপাড়া এলাকায় পাথরাজ নদীর তীব্র ভাঙনে প্রায় দুই হাজার মানুষের বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদী গ্রাস করেছে এলাকার ৫টি গ্রামের চলাচলের প্রধান রাস্তা। এছাড়া মসজিদ, মাদ্রাসা, ঈদগাহ, মাজার এবং খেলার মাঠও নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একজন বাসিন্দার অর্ধেক ঘর নদীতে চলে গেছে এবং বাকি অংশ সরিয়ে নিয়ে তিনি কোনোমতে চলাচলের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। অনেকে নিজেদের পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকার ঘর হারিয়েছেন। নিজেদের অবশিষ্ট সম্পদটুকু রক্ষায় তারা এখন দিশেহারা।
ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল জানান, “এই পাথরাজ নদীর পাশে আমাদের বাড়ি, আবাদী জমি, মসজিদ, চলাচলের রাস্তাসহ অনেক কিছু ক্ষতির মুখে পড়েছে। আমরা অনেক নেতার কাছে ধরনা দিয়েছি, কিন্তু কোনো সমাধান পাইনি।”
আরেক বাসিন্দা আব্দুল জব্বার বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষের স্মৃতিটুকুও এই নদী নিয়ে গেছে। এখন যা কিছু আছে, তাও নদীতে চলে যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন এসে গরু-ছাগলের দড়ি দিয়ে মাপজোখ করে চলে যায়, কিন্তু আর ফিরে আসে না।”

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিগত বছরগুলোতে জনপ্রতিনিধিরা নদীপাড়ের মানুষের জানমাল রক্ষায় বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো কেবল নির্বাচনে জেতার কৌশল ছিল। তাই এবার তারা মৌখিক আশ্বাস নয়, বরং সমস্যার দ্রুত সমাধান দেখতে চান।
ভুক্তভোগী মানুষজন যত দ্রুত সম্ভব নদী ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে তারা শান্তিতে ঘুমাতে পারেন।