• রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০৭:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বীরগঞ্জে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহ অভিযানের শুভ উদ্বোধন বীরগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে ১৬ ইঞ্চির প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার, পাচারকারী চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার টাকা তো দেবেই না, ধন্যবাদও দেবে না? সাবেক মন্ত্রী সামাদ আজাদ মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে বীরগঞ্জে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, জালে ৩ ব্যবসায়ী পেশাদার মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে ডোমারে ঔষধ কোম্পানি প্রতিনিধিদের মানববন্ধন বই যার বন্ধু, সে কখনো একা নয় খেলার মাঠ উন্মুক্তের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন, ডিসিকে স্মারকলিপি লালমনিরহাটের গণধর্ষণ মামলার আসামি রংপুরে গ্রেফতার দেবীগঞ্জে লাভজনক ফসলের খোঁজে চিয়া সিড চাষ শুরু করলেন কৃষক খোরশেদ আলম পঞ্চগড়ে ভুট্টা চাষে সফলতার গল্প, সার্কেল সীড কোম্পানির মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত⁠

খাবারের স্বাধীনতা আর বিবেকের দৈন্যতা: ওয়েস্টিন, হাঁসের মাংস এবং কিছু মানুষের মনস্তত্ত্ব

আই জামান চমক, ঢাকা
শুক্রবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৫

আই জাামান চমক:
মানুষের রুচি, খাবারের অভ্যাস আর পছন্দের স্বাধীনতা নিয়ে এত বিতর্কের জন্ম হতে পারে, তা ভাবলে সমাজের কিছু মানুষের মানসিক দৈন্যতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এবার আক্রমণের শিকার হয়েছেন জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তার ওয়েস্টিন হোটেলে খাওয়া বা হাঁসের মাংসের প্রতি আগ্রহ নিয়ে কিছু মানুষ যেভাবে উঠেপড়ে লেগেছে, তা দেখলে মনে হয়, আমাদের সমাজে খাবার এখন শুধু পেট ভরানোর মাধ্যম নয়, বরং রাজনৈতিক চরিত্র হননের এক নতুন হাতিয়ার।

যারা এই সমালোচনা করছেন, তাদের যুক্তিগুলো সস্তা এবং দুর্বল, যা যুক্তির বাজারে ঠকে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া একজন সাধারণ মানুষ। তারও রুচি আছে, পছন্দ আছে। তিনি একজন তরুণ নেতা হিসেবে সমাজের পরিবর্তনে কাজ করছেন, কিন্তু তার মানে এই নয় যে তিনি তার ব্যক্তিগত জীবন, তার পছন্দ-অপছন্দ, তার খাবারের রুচি বিসর্জন দেবেন। মানুষ হিসেবে তারও ভালো খাবার খাওয়ার সাধ থাকতে পারে। এই সাধ পূরণ করাটা কোনো অপরাধ নয়।

আমার তুলা মৌলভী, সম্পর্কে লোকে বলতো ‘মৌলভীর জিহ্বা দের হাত’। তিনি এতটাই ভোজনরসিক ছিলেন যে, ভালো খাবারের প্রতি তার আগ্রহ ছিল সীমাহীন। তার এই ভোজনরসিকতাকে কেউ কোনোদিন খারাপ চোখে দেখেনি। বরং তা ছিল তার জীবনের এক আনন্দময় অংশ। আমিও ব্যক্তিগতভাবে ভালো খাবারের অনুরাগী। দেশের কোথায় কোন খাবারটি ভালো, কোন দোকানে কোন বিশেষ খাবারটি খাওয়া উচিত, সে বিষয়ে আমার ভালোই ধারণা আছে। রাতের পর রাত জেগে যখন পত্রিকার কাজ করতাম, তখন প্রায়ই রাত দুটোয় বের হতাম শুধু যাত্রাবাড়ী মোড়ের একটি চায়ের দোকানে চা খেতে। মন চাইলে বাইক চালিয়ে চলে যেতাম মাওয়া ঘাটে ইলিশ খেতে। সাভারে একটি জীর্ণশীর্ণ হোটেলে এক ভদ্রমহিলা বাড়ি থেকে রান্না করে খাবার আনেন, সুযোগ পেলে সেখানে গিয়েও খেয়ে আসতে মন চায়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শত পদের ভর্তার কথা জানি, তবে কখনো ৩-৪ পদের বেশি খাওয়া হয়নি। গাজীপুরের বাইপাস এলাকার গরুর মাংসের হোটেলটির স্বাদ এখনো মুখে লেগে আছে। কুমিল্লার নুরজাহান হোটেলের চেয়েও আমার কাছে ভালো লাগে আলু ভর্তার হোটেল নামে পরিচিত হাজির হোটেলটি।

উত্তরবঙ্গের ফুড ভিলেজ তো অনেকেই চেনে, তবে রংপুরের মডার্ন মোড়ের এক হোটেলের রান্না এত মজার, তা বলে বোঝানো সম্ভব না। সৈয়দপুর রানির বন্দরে ‘ভাবির হোটেল’, একই নামে ডোমারের হোটেল,  দেবিগঞ্জে ‘বিসমিল্লা’ হোটেলের গরুর মাংস আর মুন্সির হোটেলের পেট চুক্তির খাবার কোনোদিন ভুলতে পারিনি। এই লেখাটি লেখার মুহূর্তেও মনে হচ্ছে, সুযোগ পেলে কোথাও গিয়ে খেয়ে আসি।

আমার সাথে একটি প্রোগ্রামে কবি ও অভিনেতা এবিএম সোহেল রশিদ থাকতেন। তিনি প্রায়ই হেসে বলতেন, “স্টুডিওতে কিছু খাবার অথবা ফল নিয়ে যা, কারণ তোর তো রাতে খিদা লাগবে।” এমনও ঘটেছে যে, ক্যামেরায় তাকে ক্লোজ করে দেখানো হচ্ছে আর আমি ফ্রেমের বাইরে গিয়ে খাবার খাচ্ছি। খাবারের প্রতি এই ভালোবাসা, এই আগ্রহ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত একটি বিষয়।

কারো রাতের বেলা বা ভোরবেলা খাবার খাওয়া, দামি হোটেলে খাওয়া নাকি কম দামি হোটেলে খাওয়া—এই বিষয়গুলো সম্পূর্ণই ব্যক্তিগত পছন্দের ব্যাপার। এটি নিয়ে বিতর্ক করা, সমালোচনা করা বা চরিত্র হনন করার চেষ্টা করাটা এক ধরনের অভদ্রতা ছাড়া আর কিছু নয়। যদি খাবার খাওয়া নিয়ে এতই আপত্তি থাকে, তাহলে সেইসব মানুষের বিষয়ে কী বলবেন, যারা ইয়াবা, ফেনসিডিল আর  নানা নেশা ভাং খায়? যারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে খায়, তাদের বিষয়ে কী বলবেন? যারা দেশের মানুষের জানমাল যখন তখন গিলে খায়, তাদের বিষয়ে কী বলবেন? যারা পারলে পুরো দেশটাকেই হজম করে ফেলে, তাদের বিষয়ে কী বলবেন?

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ওয়েস্টিনে ডিনার করেছেন বা হাঁসের মাংস খেতে চেয়েছেন। এটা এতটা অপরাধ নয় যে এর জন্য তাকে এতটা সমালোচিত হতে হবে। এটা জনাব তারেক রহমানের ২৬ হাজার টাকার জুতা নিয়ে ট্রল করার মতোই একটি বিষয়। আসিফ একজন মানুষ, তারও ভালো খাবার খাওয়ার সাধ থাকতে পারে। তার এই সাধকে তার রাজনৈতিক আদর্শের সাথে গুলিয়ে ফেলাটা ছোটলোকি ছাড়া আর কিছু নয়। একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আমারও ভালো রেস্টুরেন্টে খাবার খাওয়ার অভিজ্ঞতা আছে। ফাইভস্টারে খেয়েছি বললে হয়তো নতুন করে আমার পেছনে দুদক লাগিয়ে দেবে কেউ, তাই সেই কথা আর নাই বা বললাম।

আসিফ মাহমুদের খাবার খাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আজেবাজে মন্তব্য করাটা অসমীচীন এবং অভদ্রতা। এটি এক ধরনের নৈতিক দেউলিয়াপনা। খাবারের রুচি একজন মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের অংশ, তার রাজনৈতিক আদর্শের প্রতিফলন নয়। যারা এই নিয়ে সমালোচনা করছে, তাদের উচিত নিজেদের বিবেককে প্রশ্ন করা।


More News Of This Category