একসময় যেখানে প্রতিদিন মুখর থাকত ফুটবল, ক্রিকেট আর দৌড়ঝাঁপে, আজ সেই মাঠজুড়ে দাঁড়িয়ে আছে গাছের সারি। বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ যেন ধীরে ধীরে হারাচ্ছে তার প্রাণ। মাঠ সংকুচিত হওয়ায় খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা, আর এতে উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঠে পরিকল্পনাহীনভাবে চারা গাছ রোপণের ফলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক খেলাধুলা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তারা বলছেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়, বরং তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের অন্যতম মাধ্যম। মাঠ হারালে শিক্ষার্থীরা মোবাইল ও নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল বাশার জানান, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাঠ পরিদর্শন করে খেলাধুলার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
রংপুর বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সদস্য ও যমুনা টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার মাজহার মান্নান বলেন, “লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের সুস্থ বিকাশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। খেলার মাঠে গাছ লাগিয়ে খেলাধুলা বন্ধ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. আরিফ মাহফুজ জানিয়েছেন, বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, “বিদ্যালয়ের মাঠে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা বিঘ্নিত হচ্ছে। মাঠটি দ্রুত খেলাধুলার উপযোগী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
এলাকার সচেতন মহলের দাবি, বিদ্যালয় যেমন জ্ঞানের আলো ছড়ায়, তেমনি খেলার মাঠ গড়ে তোলে মানবিক, সুস্থ ও আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম। তাই মাঠ ফিরিয়ে দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রাণের স্পন্দন আবারও জাগিয়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।