পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।
তেঁতুলিয়া মডেল থানা পুলিশ শনিবার (৮ নভেম্বর) রাতেই অভিযুক্ত আব্দুস সোবহানকে (৫৭) আটক করেছে। আটক আব্দুস সোবহান জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়নের রওশনপুর এলাকার বাসিন্দা। ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে সে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
জানা যায়, ৫৭ বছর বয়সী আব্দুস সোবহান বাড়িতে লোকজন না থাকার সুযোগে কিশোরীটিকে একা পেয়ে হাত, পা ও মুখ বেঁধে জোর করে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের পর ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় ভয়ে কিশোরীটি প্রথমে কাউকে কিছু জানায়নি।
ভুক্তভোগী কিশোরী জানায়, গত ৪ এপ্রিল শুক্রবার তার মা-বাবা মরিচ তুলতে মাঠে গেলে সে বাড়িতে একা ছিল। অভিযুক্ত সোবহান সম্পর্কে তার দাদা হন এবং প্রায়ই তাদের বাড়িতে আসতেন। সেদিন তিনি ঘরে ঢুকে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করেন।
ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমি পাথর শ্রমিক। গত বৃহস্পতিবার জানতে পারলাম মেয়েটা অন্তঃসত্ত্বা। দাদার বয়সী একজন এমন সর্বনাশ করেছে। আমি তার কঠিন শাস্তি চাই।” তিনি সমাজে এ ধরনের অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
এ ঘটনা জানার পর শনিবার রাতে এলাকাবাসী অভিযুক্ত সোবহানের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। এছাড়া এলাকাবাসী ও স্থানীয়দের উদ্যোগে রবিবার বিকেলে আটক সোবহানের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয়রা জানান, কীভাবে একজন দাদার বয়সী ব্যক্তি এমন ঘৃণ্য কাজ করতে পারে, তা ভাবতেই সবাই শিউরে উঠছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি এর আগেও নানা অসামাজিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে জরিমানা দিয়েছেন বলেও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়।
তিরনইহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয় উল্লেখ করে বলেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি এ ধরনের সামাজিক অবক্ষয় রোধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুসা মিয়া আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি ধর্ষণ মামলা রুজু করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত আব্দুস সোবহানকে আটক করা হয়েছে। তাকে দ্রুত আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে।