সদ্য ঘোষিত পঞ্চগড় পৌর ও পঞ্চগড় সদর উপজেলা যুবদলের কমিটিকে তথাকথিত একতরফা ও পকেট কমিটি আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কমিটিতে ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে এই কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়ে আগামী তিন দিনের মধ্যে তা মানা না হলে তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
রবিবার দুপুরে পঞ্চগড় প্রেস ক্লাব হলরুমে পঞ্চগড় পৌর ও পঞ্চগড় সদর উপজেলা যুবদলের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতৃবৃন্দের ব্যানারে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে পঞ্চগড় পৌর যুবদলের সদ্য বিলুপ্ত আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব নুর ইসলাম দীপু বলেন, গত ১৩ নভেম্বর বিকেলে পঞ্চগড় সদর উপজেলা ও পৌর যুবদলের কেন্দ্র থেকে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ৫ সদস্যের একটি কমিটি দেওয়া হয়েছে। তিনি এই কমিটিকে মূলত একটি পকেট কমিটি হিসেবে অভিহিত করেন। তার অভিযোগ, কমিটি অনুমোদনে দলের গঠনতন্ত্র মানা হয়নি এবং এটি একতরফাভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, সাধারণত উপজেলা ও পৌর যুবদলের কমিটি জেলা ইউনিট অনুমোদন করে কেন্দ্রে পাঠায়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে পঞ্চগড় ১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে কমিটি অনুমোদন করিয়েছেন। এতে ত্যাগী এবং বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়া ও নির্যাতিত কর্মীদের বঞ্চিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যাদের দিয়ে কমিটি করা হয়েছে, তারা কখনো যুবদলের রাজনীতিতে জড়িত ছিল না। তারা ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলে ছিল। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে তিন বছর যুবদলের রাজনীতিতে যুক্ত থাকতে হয়। কিন্তু তারা কেউই যুবদলের রাজনীতি করেননি।
সংবাদ সম্মেলনে সদর উপজেলা যুবদলের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক বশিরুল ইসলাম এবং পৌর যুবদলের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক ময়নুল ইসলামসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।
অবিলম্বে এই কমিটি বিলুপ্ত করে ত্যাগী ও নির্যাতিত কর্মীদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে দীপু হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, আগামী তিন দিনের মধ্যে এই কমিটি বিলুপ্ত না করা হলে কঠোর আন্দোলন শুরু হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জেলায় কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।