সংবাদ সংগ্রহের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে চারজন সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমন ঘটনা সমাজের জন্য অশনি সংকেত এবং গণতন্ত্রের জন্য ভয়াবহ। এই ঘটনায় দৈনিক নয়া দিগন্ত, আজকের বসুন্ধরা, দেবীগঞ্জ ব্রেকিং নিউজ এবং সকালের বাণী পত্রিকার প্রতিনিধিরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সোমবার (১১ জুলাই) রাতে ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা হুমকিদাতা মানিউর রহমান মিলনের বিরুদ্ধে দেবীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
এই ধরনের ঘটনা শুধুমাত্র সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ নয়, এটি মূলত স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং মানুষের জানার অধিকারের ওপর আঘাত। সাংবাদিকরা সমাজের চোখ ও কান হিসেবে কাজ করেন, আর তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে পুরো সমাজই অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে। এটি একটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয় এবং প্রশাসনের উচিত দ্রুত এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।
ঘটনার বিস্তারিত
জিডি সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পূর্বদেবীডুবা বারঘড়িয়াপাড়া গ্রামের আনোয়ারুল ইসলাম ও হোসেন আলীর মধ্যে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও মামলা চলছে। এই বিরোধের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক লালন সরকার (দৈনিক আজকের বসুন্ধরা), ওয়ারেছুর রহমান নয়ন (দেবীগঞ্জ ব্রেকিং নিউজ), শেখ ফরিদ (দৈনিক নয়া দিগন্ত) এবং নাহিদ সিদ্দিক বাপ্পী (দৈনিক সকালের বাণী) হুমকির মুখে পড়েন।
অভিযোগ অনুযায়ী, হোসেন আলীর ছেলে মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে মানিউর রহমান মিলন নামের এক ব্যক্তি সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একই সাথে তিনি তাদের রশি দিয়ে বেঁধে রাখা এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেন। মিলন সাংবাদিকদেরকে কেন তারা সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন, সেই বিষয়ে জবাবদিহি চান এবং এই হুমকি দেন।
সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনের পদক্ষেপ
ঘটনার পর নির্ভীক ও তরুণ সাংবাদিক লালন সরকার দেবীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। (নং ৫৫৪)।
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহেল রানা জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
দেবীগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিকরা এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং হুমকি দাতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এই সংবাদটি ছড়িয়ে পড়া এবং এর বিরুদ্ধে জনমত গঠন হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে সাংবাদিক নির্যাতনের মতো ভয়াবহ ঘটনা বন্ধ হয় এবং দোষীরা উপযুক্ত শাস্তি পায়।