• রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০২:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বীরগঞ্জে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহ অভিযানের শুভ উদ্বোধন বীরগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে ১৬ ইঞ্চির প্রাচীন বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার, পাচারকারী চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার টাকা তো দেবেই না, ধন্যবাদও দেবে না? সাবেক মন্ত্রী সামাদ আজাদ মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে বীরগঞ্জে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, জালে ৩ ব্যবসায়ী পেশাদার মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে ডোমারে ঔষধ কোম্পানি প্রতিনিধিদের মানববন্ধন বই যার বন্ধু, সে কখনো একা নয় খেলার মাঠ উন্মুক্তের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন, ডিসিকে স্মারকলিপি লালমনিরহাটের গণধর্ষণ মামলার আসামি রংপুরে গ্রেফতার দেবীগঞ্জে লাভজনক ফসলের খোঁজে চিয়া সিড চাষ শুরু করলেন কৃষক খোরশেদ আলম পঞ্চগড়ে ভুট্টা চাষে সফলতার গল্প, সার্কেল সীড কোম্পানির মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত⁠

যুবলীগ থেকে যুবদল সদস্য সচিব! গাইবান্ধায় বিএনপি’র রাজনীতিতে চাঞ্চল্য

মোঃ বেলাল মিয়া, সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা)
রবিবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৫

গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুর উপজেলার ১নং রসুলপুর ইউনিয়ন যুবদলের কমিটিতে যুবলীগের সাবেক এক নেতাকে সদস্য সচিব হিসেবে পুনর্বাসন করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপিতে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ত্যাগী ও পুরনো নেতাকর্মীরা বলছেন, এমন ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে এবং তাদের দীর্ঘদিনের সংগ্রাম ও ত্যাগ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

বিএনপি ও সমমনা দলের স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ, সাদুল্যাপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়ন যুবদলের কমিটিতে হাসানুজ্জামান শাওন নামে এক ব্যক্তিকে সদস্য সচিব করা হয়েছে, যিনি একসময় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়তেই পুরো গাইবান্ধা জেলাজুড়ে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ত্যাগী নেতা জানান, গত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে তারা রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, অসংখ্য মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন। পুলিশের তাড়া খেয়ে রাতের পর রাত বনের ঝোপঝাড়, আমবাগান ও ধানের ক্ষেতে কাটিয়েছেন। এমন ত্যাগের পরও যখন আওয়ামী ঘরানার নেতারা সহজেই দলে পুনর্বাসিত হন, তখন তাদের মনে প্রশ্ন জাগে—তারা কি এতদিন ভুল রাজনীতি করেছেন?

দলের হাইকমান্ডের নির্দেশনা উপেক্ষা করার অভিযোগও উঠেছে। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বারবারই বলেছেন, ‘আওয়ামী ঘরানার কোনো ব্যক্তিকে দলের কমিটিতে নেওয়া যাবে না।’ একই সাথে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যদি কেউ এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে, তবে সেই কমিটি বাতিল করা হবে এবং অনুমোদকারীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।

ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা মনে করেন, এসব অনুপ্রবেশকারীরা কমিটিতে জায়গা পেয়ে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও অন্যান্য অরাজকতা সৃষ্টি করছে, যা বিএনপি’র ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। তারা অভিযোগ করেন, ত্যাগী ও সর্বস্ব হারানো নেতাদের নিয়ে তারা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করে, এমনকি তাদের রাজনীতি বোঝার যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। একজন ত্যাগী নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কেউ কেউ আমাদের নিয়ে বলে যে, তারা চা বিক্রি করে, তারা রাজনীতির কী বোঝে!’ এর জবাবে লেখক ও সাংবাদিক মোঃ বেলাল মিয়া পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও একসময় চা বিক্রি করতেন। তিনি কি রাজনীতি বুঝতেন না?’

দীর্ঘদিনের সংগ্রামে যারা নিজেদের সর্বস্ব হারিয়েছেন, কেউ জমিজমা বিক্রি করেছেন, কেউবা ভিটেমাটি হারিয়েছেন, তারা এখন কোণঠাসা। তাদের অভিযোগ, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এই ধরনের পুনর্বাসন করা হচ্ছে। এই ঘটনায় দলের তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতারা পর্যন্ত গভীরভাবে উদ্বিগ্ন বলে জানাগেছে।


More News Of This Category