রংপুরের গংগাচড়া উপজেলায় দাদন ও উচ্চসুদের ব্যবসার অভিযোগে পরিচিত মোঃ আব্দুল মজিদ এবং তার কন্যা মোছাঃ মাহমুদা আক্তারের বিরুদ্ধে ভয়াবহ প্রতারণা, হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ এনে ক্ষতিগ্রস্তসহ এলাকার শতাধিক মানুষ মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধনের আগে আজ দুপুরে ভুক্তভোগীরা গংগাচড়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাদী মোঃ হাফিজুল ইসলাম (৪৬) তিন বছর আগে আর্থিক সংকটে পড়ে প্রতিবেশী দুদু মিয়ার মাধ্যমে আব্দুল মজিদের সঙ্গে পরিচিত হন। সাক্ষীদের উপস্থিতিতে মজিদ তার কাছ থেকে একটি স্বাক্ষরিত ফাঁকা চেক (নং–২৫১২১৪৩) ও দুটি সাদা স্ট্যাম্পনামা রেখে তাকে ২০ হাজার টাকা ধার দেন।
পরবর্তীতে দুই বছর আগে তিনি দুই সাক্ষীর সামনে মূল টাকা ও সুদসহ ৩৪,২০০ টাকা পরিশোধ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা ফেরত নেওয়ার পরও মজিদ তার নিকট জমা রাখা ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্প ফেরত দেননি; বরং আরও ১৪,২০০ টাকা অতিরিক্ত দাবি করে না দিলে প্রাণনাশের হুমকি ও মিথ্যা মামলার ভয় দেখান।
বাদীর দাবি, ১নং বিবাদীর মেয়ে মোছাঃ মাহমুদা আক্তারের সঙ্গে তার কোনো লেনদেন না থাকা সত্ত্বেও, পরবর্তীতে ওই ফাঁকা চেক ব্যবহার করে ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা দাবিতে রংপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর মামলা (নং–৩০৭/২৩) দায়ের করা হয়।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন রানা মিয়া ও বাচ্চু মিয়া নামের আরও দুই ব্যক্তি। তাদের দাবিও, ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্প নিয়ে প্রতারণা করে টাকা আদায়ের চেষ্টা করেন মজিদ।
স্থানীয় লোকজন জানান, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে আব্দুল মজিদ দীর্ঘদিন ধরে দাদন ব্যবসা ও সুদের কারবার চালিয়ে আসছেন। গরিব-অসহায় মানুষদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়, মামলা দিয়ে হয়রানি ও নানা ধরনের প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ অবস্থার প্রতিবাদে আজ গংগাচড়া বাজার এলাকায় “গরীবের রক্তচোষা সুদ ব্যবসায়ী মজিদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন” কর্মসূচি পালন করে এলাকাবাসী। মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে দাদন ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রতারিতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।