আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: ভালো কাজের আশায় দালালের খপ্পরে পড়ে ভারতে গিয়ে আটক হওয়া ৪৭ জন নারী ও পুরুষ দীর্ঘ সাজাভোগ শেষে অবশেষে নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে এসেছেন। গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে তারা দেশে প্রবেশ করেন। ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাদেরকে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিজিবির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে। দীর্ঘদিন পর নিজ দেশের মাটিতে পা রেখে প্রবাসে আটক থাকা এই মানুষগুলোর মাঝে এক স্বস্তির আবহাওয়া তৈরি হয়।
ফিরে আসা এই দলটিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে নড়াইল, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, সাতক্ষীরা, ঢাকা ও ময়মনসিংহের বাসিন্দারাই বেশি। যাদের মধ্যে রয়েছেন আশিক শিকদার, তাজুল ইসলাম, জীবন মিয়া, সুজন মিয়া, জাকির মন্ডল, নাজির গাজী, উজ্জল হোসেন, সাকিব, কামরুজ্জামান কাজল, ইব্রাহিম আলী, মাসুদ মিয়া, পলিন গাইনি, রহিম, রুহুল ইসলাম, জালাল উদ্দিন, ইসমাইল, মাহরুপ বিল্লাহ সর্দার, ইসমাইল হোসেন, জীবন মোল্যা, সান্টু আলী, নাঈম সরকার, তহমিনা, মোছা মরিয়ম, রাতুল খান, আবু ইউসুপ, আনোয়ার, রফিজ, শহিদ প্রামাণিক, সুরাইয়া আক্তার, ইসমাইল হোসেন, আসাদ উজ্জামান, ইয়াছিন মিয়া, ইকবাল হোসেন, শরিফুল ইসলাম, দিলীপ রানা, শাহীন মোল্যা, মাসুম বিল্লাহ সুমন, ইমরান হোসেন ও জেসান সরদার। সীমান্ত পার হওয়ার সময় এই মানুষদের মুখে ছিল একই সাথে অতীত কষ্টের ছাপ এবং নিজের ঘরে ফেরার স্বস্তি।
ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুর রহমান জানান যে প্রায় এক থেকে দুই বছর আগে এরা ভালো উপার্জনের আশায় দালালদের প্রতারণার শিকার হয়ে ভারতের তামিলনাড়ুসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রবেশ করেছিলেন। অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে পরবর্তীতে তারা স্থানীয় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ভোগ করার পর তামিলনাড়ুর সালেমের আত্তূর ও ত্রিচি ক্যাম্প নামের একটি বেসরকারি শেল্টার হোম তাদেরকে নিজেদের আশ্রয়ে রাখে। পরে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতার পর ভারত সরকার প্রদত্ত বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে অবশেষে তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
ইমিগ্রেশনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর ফেরত আসা সকল ব্যক্তিকে বেনাপোল পোর্ট থানায় সোপর্দ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি, রাইটস যশোর এবং জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার নামক তিনটি বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করবে এবং পরবর্তীতে নিরাপদভাবে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেবে। সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা জানান যে সকল আইনি ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে ফেরত আসা মানুষদের দ্রুত তাদের নিজ নিজ স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকা যশোর মহিলা আইনজীবী সমিতির এরিয়া কোঅর্ডিনেটর রেখা বিশ্বাস বলেন, সীমান্ত ও থানার আনুষ্ঠানিক কাজগুলো সম্পন্ন হওয়ার পর ফেরত আসাদের যশোরস্থ নিজস্ব শেল্টার হোমে নিয়ে রাখা হবে। সেখানে তাদের সাময়িক থাকার ব্যবস্থা করা হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে প্রত্যেককে সসম্মানে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839