আইসিআরবিডি টোয়েন্টিফোর icrbd24: নীলফামারীর উত্তর জনপদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অনন্য ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো জেলা শিল্পকলা একাডেমী সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। বহু বছরের চর্চা, সাধনা এবং আঞ্চলিক শিল্পকলাকে সমৃদ্ধ করার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৩ থেকে ২০২৫ মেয়াদের জন্য নাট্যকলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য গুণীজন ও সংগঠনকে এই বিশেষ সম্মানে ভূষিত করা হয়। এবারের আয়োজনে নাট্যকলা শাখায় পৃথকভাবে সম্মাননা পেয়েছেন বিশিষ্ট নাট্যকর্মী মাসুদ বিন আমিন সুমন এবং সৃজনশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছে জেলার ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ডোমার নাট্য সমিতি। বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে এই প্রাঞ্জল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় পরিবেশের মধ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে গুণীজনদের পদচারণায় পুরো মিলনায়তন এক মুখরিত মিলনমেলায় পরিণত হয়। স্থানীয় শিল্পীদের কর্মনিষ্ঠা এবং সংস্কৃতির মূল ধারাকে ধরে রাখার যে অবিরাম প্রচেষ্টা, তাকে শ্রদ্ধা জানানোর লক্ষ্যেই জেলা শিল্পকলা একাডেমী প্রতি বছরের মতো এবারও এই উদ্যোগ গ্রহণ করে। নীলফামারীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বেগবান রাখতে যারা বছরের পর বছর নেপথ্যে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের সার্বিক অবদানকে তুলে ধরা এবং উৎসাহিত করাই ছিল এই সম্মাননা সন্ধ্যার মূল উদ্দেশ্য। জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এই স্বনামধন্য মঞ্চ থেকে গুণীজনদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বিজয়ী ও পুরস্কৃতদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন এবং তাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে স্থানীয় সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে শিল্প চর্চার আগ্রহ ফিরিয়ে আনার তাগিদ দেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নুঝহাত তাসনীম আওনের সভাপতিত্বে এই আড়ম্বরপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম এবং প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান রাব্বী প্রধান। বক্তারা প্রত্যেকেই নীলফামারীর ইতিহাস, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে এ ধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং শিল্পী ও কলাকুশলীদের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আঞ্চলিক সংস্কৃতি চর্চার বিভিন্ন শাখায় যারা নিজেদের নিবেদিত রেখেছেন, তাদের কাজের স্বীকৃতি ছিল এই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ। বিভিন্ন বিভাগে সম্মাননা পাওয়া ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোর নাম ঘোষণার সময় মিলনায়তনে উপস্থিত দর্শক ও অতিথিরা করতালি দিয়ে তাদের অভিনন্দন জানান। নাট্য কলা শাখায় এই গৌরবময় সম্মাননা গ্রহণ করেছেন মোস্তফা হক প্রধান বাচ্চু, মাসুদ বিন আমিন সুমন এবং আসলাম হায়াত। এছাড়া কণ্ঠসংগীতে তাসমিন ফওজিয়া ওপেল, যন্ত্রসংগীতে খন্দকার মোঃ হানিফ, সৃজনশীল সাংস্কৃতিক গবেষক হিসেবে আব্দুল মান্নান ও নুরন্নবী এবং চারুকলা শাখায় নজমুল ইসলাম সম্মাননায় ভূষিত হন।
একই সাথে শিল্পের অপরাপর ধারাগুলোকে ত্বরান্বিত করার পেছনে যাদের মেধা ও শ্রম রয়েছে, তাদেরকেও যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়েছে। কণ্ঠসংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য আল আসাদুজ্জামান আজাদ, যন্ত্রসংগীতে নুর এ আলম সিদ্দিকী সোহেল খান, আবৃত্তিতে আশরাফি চৌধুরী, নৃত্যকলা শাখায় অনিমেষ ঘোষ বাবন এবং প্রামাণ্য চিত্র ধারণ তথা ফটোগ্রাফিতে নুর আলমকে এই সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। ব্যক্তিপর্যায়ের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক ও সংগঠনিক অবদানকে উৎসাহিত করতে সৃজনশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন বিভাগে যৌথভাবে সম্মাননা লাভ করে ডোমার নাট্য সমিতি এবং জলসিঁড়ি নাট্য সংস্থা নীলফামারী।
পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে একদিকে যেমন ছিল সম্মান প্রাপ্তির আনন্দ, অন্যদিকে ছিল শিল্পীদের সুসংগঠিত সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। মূল স্মারক প্রদান পর্বের সমাপ্তি ঘটার পর মঞ্চে শুরু হয় মনোজ্ঞ ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এই দ্বিতীয় অংশের অনুষ্ঠানটি নিখুঁত ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় পরিচালনা করেন ফারহানা ইয়াসমিন ইমু। স্থানীয় গুণী কণ্ঠশিল্পী, নৃত্যশিল্পী ও আবৃত্তিকারদের পরিবেশিত একের পর এক সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুগ্ধ হন মিলনায়তনে উপস্থিত সর্বস্তরের দর্শক ও অতিথিরা। পুরো আয়োজনটি নীলফামারীর সাংস্কৃতিক ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল ও স্মরণীয় দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
এডিটর: আই জামান চমক। হোয়াটসএ্যাপ: 01718456839